খাবার খাওয়ার পর হাঁটা কি শরীরের জন্য ভালো
খাবার খাওয়ার পর হালকা হাঁটার অভ্যাস দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু একটি ট্রেন্ড, কিন্তু বাস্তবে খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। হজম ভালো রাখা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নানা দিকেই এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাবার খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা, সম্ভাব্য কিছু অসুবিধা এবং কতক্ষণ ও কীভাবে হাঁটা সবচেয়ে ভালো।
খাবার খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে : খাবার খাওয়ার পর হাঁটলে পাকস্থলী ও অন্ত্র সক্রিয় হয়। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেট ভারী লাগার সমস্যা কমে। শরীরের নড়াচড়া হজমের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হজমতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে মুখ, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ অন্ত্রসহ হজমের সঙ্গে জড়িত অঙ্গগুলো রয়েছে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে : খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে পারে। এটি বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশ উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর ১০ মিনিট হালকা হাঁটা এ
খাবার খাওয়ার পর হালকা হাঁটার অভ্যাস দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু একটি ট্রেন্ড, কিন্তু বাস্তবে খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। হজম ভালো রাখা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নানা দিকেই এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাবার খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা, সম্ভাব্য কিছু অসুবিধা এবং কতক্ষণ ও কীভাবে হাঁটা সবচেয়ে ভালো।
খাবার খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে : খাবার খাওয়ার পর হাঁটলে পাকস্থলী ও অন্ত্র সক্রিয় হয়। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেট ভারী লাগার সমস্যা কমে। শরীরের নড়াচড়া হজমের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হজমতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে মুখ, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ অন্ত্রসহ হজমের সঙ্গে জড়িত অঙ্গগুলো রয়েছে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে : খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে পারে। এটি বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশ উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর ১০ মিনিট হালকা হাঁটা একবারে দীর্ঘ সময় হাঁটার চেয়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস না থাকলেও এই অভ্যাস রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক : নিয়মিত হাঁটা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
প্রতিদিন খাবারের পর তিনবার ১০ মিনিট করে হাঁটলে সহজেই দৈনিক প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যকলাপ সম্পন্ন করা যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে : ওজন কমাতে হলে শরীরে যত ক্যালরি প্রবেশ করে, তার চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচ হওয়া প্রয়োজন। খাবারের পর হাঁটা ক্যালরি খরচ বাড়াতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে : যারা নিয়মিত হাঁটেন না, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
সম্ভাব্য অসুবিধা
খাবারের পর হাঁটার তেমন কোনো বড় ক্ষতিকর দিক নেই। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত বা বেশি জোরে হাঁটলে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বমিভাব বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা হলে খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে হাঁটা শুরু করা ভালো। পাশাপাশি হাঁটার গতি হালকা রাখাই নিরাপদ।
কতক্ষণ হাঁটা সবচেয়ে ভালো
খাবারের পর প্রায় ১০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। এতে উপকার পাওয়া যায় এবং পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। দিনে তিন বেলা খাবারের পর ১০ মিনিট করে হাঁটলে মোট ৩০ মিনিট হাঁটা সম্পন্ন হয়, যা শরীরের জন্য উপকারী।
হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত
খাবারের পর দৌড়ানো বা খুব দ্রুত হাঁটা ভালো নয়। হজমের সময় অতিরিক্ত জোরে ব্যায়াম করলে পেটের সমস্যা হতে পারে।
হালকা থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটুন। এমনভাবে হাঁটুন যাতে হৃৎস্পন্দন একটু বাড়ে, কিন্তু শ্বাস নিতে কষ্ট না হয়। ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটারের কম গতিতে হাঁটাই উপযুক্ত।
খাবার খাওয়ার পর হালকা হাঁটা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটি হজম ভালো রাখে, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তবে হাঁটার সময় ও গতি ঠিক রাখা জরুরি। খুব বেশি জোর না দিয়ে নিয়মিত অল্প সময় হাঁটলেই উপকার পাওয়া যায়। যাদের আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভালো। দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট অভ্যাসটি যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা অনেক সহজ হতে পারে।
সূত্র : Health line