খালি বোতল, ভাঙা খেলনা ফেলতে পারেন না, জানুন কেন

অনেকেই আলমারিতে খালি বোতল, বারান্দায় ভাঙা চেয়ার-টেবিল, পুরোনো খবরের কাগজের স্তূপ, নষ্ট ইলেকট্রনিকস, ভাঙা খেলনা কিংবা ছেঁড়া বই রেখে দেন। এগুলো ফেলে দিতে বললেই উত্তর আসে, ‘একদিন না একদিন কাজে লাগবে।’ কিছুটা স্মৃতির টান বা প্রয়োজনের কথা ভেবে পুরোনো জিনিস রেখে দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন অপ্রয়োজনীয় জিনিস এত বেশি জমতে থাকে যে ঘরের ব্যবহারই কঠিন হয়ে যায়, তখন বিষয়টি শুধু অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হতে পারে একটি মানসিক সমস্যা, যার নাম হোর্ডিং ডিজঅর্ডার । হোর্ডিং ডিজঅর্ডার কী? হোর্ডিং ডিজঅর্ডার হলো এমন একটি মানসিক সমস্যা, যেখানে একজন মানুষ অপ্রয়োজনীয় বা মূল্যহীন জিনিসও ফেলে দিতে পারেন না। তার মনে হয়, এগুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে বা ফেলে দিলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। ফলে খালি বোতল, ভাঙা আসবাব, পুরোনো কাপড়, নষ্ট খেলনা, পুরোনো কাগজ সবকিছুই জমিয়ে রাখে। ধীরে ধীরে পুরো ঘর ভর্তি হয়ে যায় এমন জিনিসে, যেগুলোর বাস্তবে খুব একটা প্রয়োজন থাকে না। কেন এমন হয়? আগে মনে করা হতো, হোর্ডিং ডিজঅর্ডার অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি)-এরই একটি অংশ। তবে বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে আলাদা একটি মানসিক রো

খালি বোতল, ভাঙা খেলনা ফেলতে পারেন না, জানুন কেন

অনেকেই আলমারিতে খালি বোতল, বারান্দায় ভাঙা চেয়ার-টেবিল, পুরোনো খবরের কাগজের স্তূপ, নষ্ট ইলেকট্রনিকস, ভাঙা খেলনা কিংবা ছেঁড়া বই রেখে দেন। এগুলো ফেলে দিতে বললেই উত্তর আসে, ‘একদিন না একদিন কাজে লাগবে।’

কিছুটা স্মৃতির টান বা প্রয়োজনের কথা ভেবে পুরোনো জিনিস রেখে দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন অপ্রয়োজনীয় জিনিস এত বেশি জমতে থাকে যে ঘরের ব্যবহারই কঠিন হয়ে যায়, তখন বিষয়টি শুধু অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হতে পারে একটি মানসিক সমস্যা, যার নাম হোর্ডিং ডিজঅর্ডার ।

হোর্ডিং ডিজঅর্ডার কী?

হোর্ডিং ডিজঅর্ডার হলো এমন একটি মানসিক সমস্যা, যেখানে একজন মানুষ অপ্রয়োজনীয় বা মূল্যহীন জিনিসও ফেলে দিতে পারেন না। তার মনে হয়, এগুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে বা ফেলে দিলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

ফলে খালি বোতল, ভাঙা আসবাব, পুরোনো কাপড়, নষ্ট খেলনা, পুরোনো কাগজ সবকিছুই জমিয়ে রাখে। ধীরে ধীরে পুরো ঘর ভর্তি হয়ে যায় এমন জিনিসে, যেগুলোর বাস্তবে খুব একটা প্রয়োজন থাকে না।

jago

কেন এমন হয়?

আগে মনে করা হতো, হোর্ডিং ডিজঅর্ডার অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি)-এরই একটি অংশ। তবে বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে আলাদা একটি মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই সমস্যার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন-

  • বংশগত বা জিনগত প্রভাব
  • অতিরিক্ত নিরাপত্তাহীনতা
  • কোনো প্রিয় মানুষ বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারানোর অভিজ্ঞতা
  • উদ্বেগ বা মানসিক চাপ
  • সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া

অনেকের মনে হয়, পুরোনো জিনিসগুলো তাদের নিরাপত্তা বা স্মৃতির অংশ। তাই সেগুলো ফেলে দিতে গেলে তারা মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন।

যেভাবে বুঝবেন সমস্যা গুরুতর হচ্ছে?

যদি কেউ প্রায় সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখেন এবং কোনো কিছুই ফেলতে না চান, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

এছাড়া যদি-

  • ঘরের চলাফেরার জায়গা কমে যায়,
  • পরিবারের অন্য সদস্যরা বিরক্ত বা সমস্যায় পড়েন,
  • জিনিস ফেলে দিতে বললে তীব্র রাগ, উদ্বেগ বা কষ্ট অনুভব করেন,
  • নিজেরও মনে হয় এত জিনিস রাখার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তবু ফেলতে পারেন না,
  • তাহলে এটি হোর্ডিং ডিজঅর্ডারের লক্ষণ হতে পারে।

পরিবারের ওপর কী প্রভাব পড়ে?

এই সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ঘর ভরে গেলে পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। অনেক সময় ঘর পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ে। এছাড়া এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত ঝগড়া, মানসিক চাপ এবং সম্পর্কের অবনতিও হতে পারে।

চিকিৎসা সম্ভব?

হ্যাঁ। তবে হোর্ডিং ডিজঅর্ডারের চিকিৎসা তুলনামূলক দীর্ঘমেয়াদি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই বুঝতে চান না যে তার একটি মানসিক সমস্যা রয়েছে।

চিকিৎসকেরা সাধারণত কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে জিনিস ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করেন। প্রয়োজন হলে এসএসআরআই শ্রেণির কিছু ওষুধও দেওয়া হতে পারে, বিশেষ করে উদ্বেগ বা অবসাদের সমস্যা থাকলে।

চিকিৎসার উন্নতি সাধারণত কয়েক মাস সময় নিতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

যা করবেন

পরিবারে কেউ এমন সমস্যায় ভুগলে তাকে জোর করে সব জিনিস ফেলে দিতে বাধ্য করবেন না। এতে তার উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বরং সহানুভূতির সঙ্গে তার কথা শুনুন, ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় জিনিস আর অপ্রয়োজনীয় জিনিস আলাদা করতে সাহায্য করুন এবং প্রয়োজনে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

সূত্র:মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভিল্যান্ড ক্লিনিক, দ্য ইন্ডিয়ান টাইমস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow