খাল খননের মজুরি চাওয়ায় নারী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ
খাল খননের মজুরি চাওয়ায় নারী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া খাল পুনঃপুননের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তা কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগও উঠেছে। এর প্রতিবাদে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত উপজেলা ঘেরাও করে রাখেন খাল খননের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। শ্রমিক ও খাল পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সূত্রে জানা যায়, ৪০ কর্ম দিবসের মাধ্যমে খাল পুনঃখননের কাজ চলছে গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের রাধা কৃষ্ণপুর এলাকায়। রাধা কৃষ্ণপুর ব্রিজ থেকে কালিকা প্রসাদ চৌধুরী হয়ে কলেজ রোড প্রফেসর কলোনি ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ২৭ দিন কাজ করেছেন নারী -পুরুষ শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের মজুরি বিশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রদান করার কথা থাকলেও ২৭ কার্যদিবস অতিক্রম হলেও শ্রমিকদের মজুরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম প্রদান না করে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্পের শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ সদর উপজেলা প
খাল খননের মজুরি চাওয়ায় নারী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া খাল পুনঃপুননের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তা কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগও উঠেছে।
এর প্রতিবাদে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত উপজেলা ঘেরাও করে রাখেন খাল খননের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।
শ্রমিক ও খাল পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সূত্রে জানা যায়, ৪০ কর্ম দিবসের মাধ্যমে খাল পুনঃখননের কাজ চলছে গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের রাধা কৃষ্ণপুর এলাকায়। রাধা কৃষ্ণপুর ব্রিজ থেকে কালিকা প্রসাদ চৌধুরী হয়ে কলেজ রোড প্রফেসর কলোনি ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ২৭ দিন কাজ করেছেন নারী -পুরুষ শ্রমিকরা।
তবে শ্রমিকদের মজুরি বিশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রদান করার কথা থাকলেও ২৭ কার্যদিবস অতিক্রম হলেও শ্রমিকদের মজুরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম প্রদান না করে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্পের শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম ও ট্যাগ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার কাজল মিয়ার কাছে বিলের কথা বলতে গেলে দুর্ব্যবহার এবং শ্রমিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি নারী শ্রমিককে কান ধরে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও রিয়াজুল ইসলাম।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘণ্টাব্যাপী শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে সোমবার দুপুরে থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সদর উপজেলা পরিষদের সামনে ক্ষোভ জানান। এ সময় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিকরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করেন।
নারী শ্রমিক উর্মিলা বলেন, ‘কামের টাকা চাইতে গেলে পিআইও কান ধরিয়া অফিস থেকে বের করে দিতে চায় আমাদের। তার আমরা শাস্তি চাই অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে এই পিআইও ও ট্যাগ অফিসার। আমরা এখন না খেয়ে আছি আর ওরা আমাদের শাসায়। এদের মধ্যে কষ্ট করে কাজ করেছি কেন ওরা আমাদের বিল এখনো দিবে না।’
ভুক্তভোগী শ্রমিক সর্দার আব্দুল কাদের কালবেলাকে বলেন, ‘সমস্যা আমরা খাল খাওয়ানোর কাম করছি। টাকা চাইলে আমাদের সঙ্গে সাহেব জঘন্য খারাপ ব্যবহার করছে। ওনার বাপের বয়সের বয়স আমার। আমাক রোদের মধ্যে দেড় ঘণ্টা দাঁড় করিয়া রাখছে। বিশ দিন পরে টেকা দেওয়ার কথা কিন্তু ২৭ দিন কাজ করেও আমরা টাকা পাচ্ছি না।’
অপরদিকে খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু কালবেলাকে বলেন, এই টাকাটা পাওয়ার কথা ছিল এক সপ্তাহ আগে, তবে আজ পাবে কাল পাবে এরকম নানা রকম কথা বলে হয়রানি করছেন পিআইও। এই টাকাটি তো পিআইও ও ইউএনও স্যারের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আসে। এখানে তো আমার করার কিছু নেই। শ্রমিকরা আমার কাছে আসলে আমি পিআইওকে বিষয়টি জানালে পিআইও আমার সাথে কথা কাটাকাটি করে। আমি চাই দ্রুত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাক।
এই ঘটনায় খাল পুনঃখননের ট্যাগ অফিসার কামাল মিয়া সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও গোপনে বলেন, ‘আমি স্বাক্ষর দিয়ে শ্রমিকদের তালিকার মেইল পিআইওকে দিয়েছি। তবে বিল পিআইও সাহেব দিবে কি না দিবে তার বিষয়টি এটি। আমি ঘটনাস্থলে ৮৩ জন শ্রমিকের বদলে ৫০ জন শ্রমিক পেয়েছি। আজকের ঘটনা উদ্দেশ্যেমূলকভাবে মব সৃষ্টি করেছে চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মাধ্যমে।’
নারী শ্রমিকদের কান ধরে বের করে দেওয়ার বিষয়ে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসরামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমি কিছু জানি না।
এদিকে শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক মোবাইলে বলেন, আমি নতুন এসেছি উপজেলায়। ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?