প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রমের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক শিবির নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে এসেছিলেন। এখানে খাল খননসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে গেছেন। এগুলো কি প্রধানমন্ত্রীর কাজ?
খাল খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড আছে, খেলাধুলার জন্য ক্রীড়া অধিদপ্তর এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত সঠিক লোককে সঠিক জায়গায় বসানো। তাহলে অটোমেটিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-(কেমুসাসের) শহীদ সুলেমান হলে ‘জুলাই ঐক্য’ সিলেট আয়োজিত ‘গণরায় বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, ‘বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, যারা তাদের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি করে, শেষ পর্যন্ত তাদেরই রক্ষা করতে পারে না দলটি। ১৯৭৫ সালে যেমনটি ঘটেছে, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’
‘যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার সুযোগ তৈরি করেছে, তাদের প্রতিও দলটি দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতেও এর কঠোর মূল্য দিতে হবে। কারণ জুলাই সনদ উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, আমাদেরকে এখন কোনটা সংস্কার, কোনটা সংশোধন সেটা শেখানো হচ্ছে। অথচ জুলাই সনদের প্রথম কথাই হচ্ছে সংস্কার। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে জাতীয় সংসদের পাশাপাশি নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ওই সময় জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলে যদি নির্বাচন না দেয়, তাই রাজি হয়েছিলাম। একজন মন্ত্রী পার্লামেন্টে এমন মিথ্যা প্রতারণা মুলক বক্তব্য দিতে পারে না। এই ঘটনা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে হলে ইতোমধ্যে তাকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হতো।
সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তাবিস উন নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. ইসমাঈল পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বিএনপি জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। আবার সংসদ অধিবেশনে সরকারের মন্ত্রী বলেছেন, তখন যদি নির্বাচন না দেয় সেই আশঙ্কা থেকে বাধ্য হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম। জনগণ তাহলে কোনটা বিশ্বাস করবে? সরকারের পক্ষ থেকে সেটা পরিষ্কার করা উচিত।
জুলাই ঐক্য সিলেটের সমন্বয়ক, সিলেট জেলা বারের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুর রবের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কেমুসাসের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, সাবেক অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, এনসিপি সিলেট মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক নেসারুল হক চৌধুরী ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই যোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন শিশির।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুলাই ঐক্য সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।