খুলনায় হামের ভয়াবহ প্রকোপ, হাসপাতালে ভর্তি ৩০০
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগীর সংখ্যা ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলাকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে হামের উপসর্গের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় খুলনায় কোনো আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ২৯৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৬০ জন, বাগেরহাটে ৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন, যশোরে ৫৯ জন, ঝিনাইদহে ১৮ জন, কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৩ জন, মাগুরায় ১৭ জন, মেহেরপুরে ৪ জন, নড়াইলে ১২ জন এবং সাতক্ষীরায় ১৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডা. সৈয়েদা রুকছানা পারভীন বলেন, ‘হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগীর সংখ্যা ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলাকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে হামের উপসর্গের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় খুলনায় কোনো আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ২৯৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৬০ জন, বাগেরহাটে ৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন, যশোরে ৫৯ জন, ঝিনাইদহে ১৮ জন, কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৩ জন, মাগুরায় ১৭ জন, মেহেরপুরে ৪ জন, নড়াইলে ১২ জন এবং সাতক্ষীরায় ১৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডা. সৈয়েদা রুকছানা পারভীন বলেন, ‘হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।’
তিনি আরও জানান, সাধারণত সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডা. পারভীন বলেন, ‘এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। ৪৮ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে দুই শতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে বিপুল সংখ্যক হামের রোগীকে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।’
এদিকে, খুলনায় হামের নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু ভর্তি বাড়লেও কোনো সরকারি হাসপাতালে শিশুদের জন্য এনআইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি স্ক্যানু (SCNU) থাকলেও সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ নবজাতক চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত শয্যা খালি থাকা সত্ত্বেও রোগীদের নিয়মিত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মুজিবর রহমান বলেন, ‘ছুটির দিন থাকায় সব জেলার হালনাগাদ তথ্য এখনো হাতে পাইনি। তবে আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সঠিক তথ্য পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।’
শিশুদের জন্য এনআইসিইউ সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খুলনায় আগে থেকেই শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা নেই। হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখতে হয়। কারও আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খুলনায় হামের প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।