গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নতুন ভোরের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের নানামুখী আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল একটি নতুন সরকার গঠনের সংবাদ নয়; বরং এটি একটি জাতির সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক প্রবল অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোটের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষ একটি স্বৈরাচারমুক্ত নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এই বিজয়ের উল্লাসের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রত্যাশার চাপ’। ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত প্রতিটি জনরায় আসলে একেকটি কঠোর দাবিনামা—যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার এক অলিখিত অঙ্গীকার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন বরাবরই উৎসব এবং

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নতুন ভোরের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের নানামুখী আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল একটি নতুন সরকার গঠনের সংবাদ নয়; বরং এটি একটি জাতির সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক প্রবল অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোটের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষ একটি স্বৈরাচারমুক্ত নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এই বিজয়ের উল্লাসের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রত্যাশার চাপ’। ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত প্রতিটি জনরায় আসলে একেকটি কঠোর দাবিনামা—যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার এক অলিখিত অঙ্গীকার।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন বরাবরই উৎসব এবং উত্তেজনার এক মিশ্র নাম; তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল আক্ষরিক অর্থেই অনন্য। এই নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে যে প্রখর সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে, তা বিগত কয়েক দশকের ইতিহাসে বিরল। সাধারণ মানুষ এবার কেবল প্রার্থী নির্বাচন করেননি, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের রায় দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা এবং একতরফা নীতিনির্ধারণের ফলে জনমনে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি জনগণের এই বিপুল সমর্থন মূলত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’ এক ঐতিহাসিক সুযোগ। দেশের মানুষ এখন আর রাজপথের সংঘাত কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চায় না; তাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো একটি অংশগ্রহণমূলক ও সমঝোতাভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। জাতীয় সংসদ যেন কেবল সংখ্যাতত্ত্বের জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রে পরিণত না হয়, বরং সেখানে যেন বিরোধী মত ও কণ্ঠস্বরের প্রতিও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়—এটাই এখন সময়ের দাবি।

একটি রাষ্ট্রের সুসংহত মেরুদণ্ড হলো তার স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানসমূহ। দুর্ভাগ্যবশত, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—তা নির্বাচন কমিশন হোক, বিচার বিভাগ কিংবা প্রশাসনিক কাঠামো—তীব্র দলীয়করণের অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থ রক্ষায় ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি এক গভীর বিচ্ছিন্নতাবোধ ও অনাস্থা তৈরি হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার। দলীয় বৃত্ত ভেঙে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় জনবান্ধব ও নিরপেক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ভোটের পরবর্তী এই সময়টি আসলে একটি সন্ধিক্ষণ। একদিকে আছে নতুনের প্রত্যাশা, অন্যদিকে আছে পুরোনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থার সংস্কারের চ্যালেঞ্জ। যদি সঠিক পরিকল্পনা, সততা এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে এই পথচলা শুরু হয়, তবে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আশা তখনই পূর্ণ হবে, যখন প্রতিটি নাগরিক অনুভব করবে যে—এই রাষ্ট্রটি তার, এই স্বাধীনতা তার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কেবল স্লোগানে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে প্রতিফলিত হোক—এটাই হোক আগামীর বাংলাদেশের মূল সুর।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রের সুফল কখনোই ঘরে ঘরে পৌঁছাবে না। জনগণ চায় এমন এক প্রশাসন, যেখানে একজন নাগরিক রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। আমলাতন্ত্রের ওপর থেকে দলীয় ছায়া সরিয়ে দিয়ে তাকে সত্যিকারের জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।

রাজনীতি নিয়ে যতই আলাপ হোক না কেন, সাধারণ মানুষের কাছে দিনশেষে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো তার পকেটের অবস্থা। গত কয়েক বছর ধরে দ্রব্যমূল্যের যে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, তা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মানকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ‘পেটের দাবি’ বড় হয়ে দাঁড়ায়।

বিএনপি জোট তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় অর্থনৈতিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বাস্তব প্রয়োগ এখন মানুষ দেখতে চায়। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভারসাম্য আনা হবে নতুন সরকারের অগ্নিপরীক্ষা। গ্রামীণ কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য চায়, আর শহরের চাকরিজীবী চায় তার সীমিত আয়ে মাস শেষে শান্তিতে ঘুমানো। ম্যাক্রো-ইকোনমিক্স বা বড় অংকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গল্প দিয়ে এই ক্ষুধা মেটানো সম্ভব নয়; মানুষের প্রয়োজন সরাসরি মাইক্রো-লেভেলে স্বস্তি।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি তরুণ। এই প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র মানে কেবল পাঁচ বছরে একবার ভোট দেওয়া নয়, বরং তাদের কাছে গণতন্ত্রের অর্থ হলো ‘সুযোগের সমতা’। বিগত বছরগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা তরুণদের মনে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি প্রচণ্ড অনীহা তৈরি করেছিল। মেধাবী ছাত্ররা আজ দেশ ছাড়তে মরিয়া, কারণ তারা নিজ দেশে যোগ্যতার মূল্যায়ন পাচ্ছে না।

নতুন সরকারের কাছে তরুণ সমাজের প্রত্যাশা হলো একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা। সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক বিবেচনার অবসান ঘটিয়ে কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্টার্ট-আপ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিকে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তরুণরা যদি হতাশ হয়, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা। উন্নয়নের মেগা প্রজেক্টের আড়ালে যে বিশাল অংকের অর্থ পাচার এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। নতুন সরকার যদি দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে, তবে জনগণের এই ক্ষোভ বিদ্রোহে রূপ নিতে পারে।

জনগণ চায় এমন এক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যা হবে পূর্ণ স্বাধীন এবং শক্তিশালী। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা এবং লুণ্ঠিত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা এখন জরুরি। স্বচ্ছতা কেবল মুখে বললে হবে না, প্রতিটি সরকারি কাজের টেন্ডার থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বৈশ্বিক সংকটের সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে। ঘূর্ণিঝড়, আকস্মিক বন্যা এবং তীব্র নদীভাঙন দেশের উপকূলীয় ও উত্তরাঞ্চলের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই বাস্তবতায়, নবনির্বাচিত সরকারের কাছে পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি অ্যাজেন্ডা নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান শর্ত হওয়া উচিত।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, অপরিকল্পিত নগরায়ণের নামে নির্বিচারে প্রকৃতি ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মেগাসিটিগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ রোধে কঠোর আইনের প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ এখন জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নারীরা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। গার্মেন্টস সেক্টর থেকে শুরু করে করপোরেট অফিস—সবখানেই তাদের পদচারণা। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। পথে-ঘাটে, কর্মক্ষেত্রে এমনকি ঘরেও নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো নারীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। এছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা প্রয়োজন।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিত ‘সবার সাথে বন্ধুত্বের’। কিন্তু ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির চাপ সবসময়ই থাকে। জনগণের প্রত্যাশা হলো, নতুন সরকার এমন এক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সবার ওপরে রাখবে। রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল পরিবর্তনের লগ্ন। এই পরিবর্তনে জনগণের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল, তা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে জেতানোর জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকে মেরামত করার জন্য। বিএনপি জোটের কাঁধে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ক্ষমতা যেন অহঙ্কারের কারণ না হয়, বরং তা যেন হয় সেবার সুযোগ—এমনটিই চায় এদেশের মানুষ।

ভোটের পরবর্তী এই সময়টি আসলে একটি সন্ধিক্ষণ। একদিকে আছে নতুনের প্রত্যাশা, অন্যদিকে আছে পুরোনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থার সংস্কারের চ্যালেঞ্জ। যদি সঠিক পরিকল্পনা, সততা এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে এই পথচলা শুরু হয়, তবে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আশা তখনই পূর্ণ হবে, যখন প্রতিটি নাগরিক অনুভব করবে যে—এই রাষ্ট্রটি তার, এই স্বাধীনতা তার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কেবল স্লোগানে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে প্রতিফলিত হোক—এটাই হোক আগামীর বাংলাদেশের মূল সুর।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।

এইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow