গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই গণভোট সংবিধানবিরোধী, অবাস্তব এবং বাস্তবায়িত হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের ব্যানকুয়েট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। জিএম কাদের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবিধানিক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছে এবং শপথের সময় সংবিধান সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের মতো জটিল বিষয় গণভোটের মাধ্যমে আনার কোনো সাংবিধানিক বিধান নেই। সংবিধান অনুযায়ী, কেবল নির্বাচিত সংসদই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তিনি বলেন, এত জটিল একটি বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে উপস্থাপন করা অবাস্তব। গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের বিষয় এভাবে উপস্থাপন করা অদ্ভুত ও অ

গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই গণভোট সংবিধানবিরোধী, অবাস্তব এবং বাস্তবায়িত হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের ব্যানকুয়েট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

জিএম কাদের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবিধানিক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছে এবং শপথের সময় সংবিধান সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের মতো জটিল বিষয় গণভোটের মাধ্যমে আনার কোনো সাংবিধানিক বিধান নেই। সংবিধান অনুযায়ী, কেবল নির্বাচিত সংসদই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে পারে।

তিনি বলেন, এত জটিল একটি বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে উপস্থাপন করা অবাস্তব। গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের বিষয় এভাবে উপস্থাপন করা অদ্ভুত ও অযৌক্তিক। যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে, তারা বিষয়টি আদৌ বুঝে করেছে কি না, তা নিয়েও আমার সন্দেহ রয়েছে।

সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এসব সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে দেশ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত কোনো ক্ষমতা না দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। স্বৈরাচার রোধের নামে যদি ক্ষমতাহীন সরকার তৈরি করা হয়, তাহলে দেশ কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার লাগাম টানতে হবে জবাবদিহিতার মাধ্যমে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা কেড়ে নিলে কোনো সরকার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এতে সরকার কয়েক দিনের বেশি টিকবে না, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং দেশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।

জিএম কাদের বলেন, এসব সংস্কার প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন সংসদ ও সংবিধান নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের কথা শোনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় পার্টি এই গণভোট প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা ‘না’ ভোট দেবো এবং দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সবাইকে ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবো।

তিনি দাবি করেন, এই গণভোটের প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশ রক্ষার স্বার্থে এই গণভোট বাতিল হওয়া উচিত।

ইএআর/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow