গতবার বাড়িতে থাকতেই ভোট হয়ে গেছিল, এবার লাইনে দাঁড়িয়ে দিচ্ছি

পাবনার চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে পাবনা ৩ আসন। এই আসনের চাটমোহর উপজেলার বোথরগ্রামে এক মাঠে দুটি ভোটকেন্দ্র। একটি বোথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নারী কেন্দ্র ও অন্যটি বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় পুরুষ কেন্দ্র। এই পুরুষ কেন্দ্রে বন্ধুবান্ধব নিয়ে দলবেঁধে ভোট দিতে এসেছেন বোথরগ্রামের তরুণ মনিরুল ইসলাম। এবারের ভোট নিয়ে অনুভূতি প্রকাশের সময় এ তরুণ একইসঙ্গে জানালেন আক্ষেপ ও আনন্দের গল্প। মনিরুল জানান, ভোটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি তিনি। গত সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে নিজ বাড়িতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই জানতে পারেন তার ভোট হয়ে গেছে। তাই আর ভোটকেন্দ্রে যাননি। তবে এবার বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে হইহুল্লোড়ে ভোট দিতে এসেছেন তিনি। অভিব্যক্তি জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘এমন একটা পর্যায়ে আমরা দেশের নির্বাচন দেখেছি, যখন ভোট ব্যবস্থা একদমই ভেঙে পড়েছে। সব দলের অংশগ্রহণ ছিল না। ভোট কেউ না দিয়ে দিলেও অন্তত ভোট দেওয়ার দরকার ছিল না। তবে এবারে কিছুটা আশাবাদী ছিলাম। সেই আশার জায়গা থেকেই বন্ধুরা সবাই একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। সকালে এসেও দেখি বড় বড় লাইন। লাইন

গতবার বাড়িতে থাকতেই ভোট হয়ে গেছিল, এবার লাইনে দাঁড়িয়ে দিচ্ছি

পাবনার চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে পাবনা ৩ আসন। এই আসনের চাটমোহর উপজেলার বোথরগ্রামে এক মাঠে দুটি ভোটকেন্দ্র। একটি বোথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নারী কেন্দ্র ও অন্যটি বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় পুরুষ কেন্দ্র। এই পুরুষ কেন্দ্রে বন্ধুবান্ধব নিয়ে দলবেঁধে ভোট দিতে এসেছেন বোথরগ্রামের তরুণ মনিরুল ইসলাম।

এবারের ভোট নিয়ে অনুভূতি প্রকাশের সময় এ তরুণ একইসঙ্গে জানালেন আক্ষেপ ও আনন্দের গল্প। মনিরুল জানান, ভোটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি তিনি। গত সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে নিজ বাড়িতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই জানতে পারেন তার ভোট হয়ে গেছে। তাই আর ভোটকেন্দ্রে যাননি। তবে এবার বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে হইহুল্লোড়ে ভোট দিতে এসেছেন তিনি।

অভিব্যক্তি জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘এমন একটা পর্যায়ে আমরা দেশের নির্বাচন দেখেছি, যখন ভোট ব্যবস্থা একদমই ভেঙে পড়েছে। সব দলের অংশগ্রহণ ছিল না। ভোট কেউ না দিয়ে দিলেও অন্তত ভোট দেওয়ার দরকার ছিল না। তবে এবারে কিছুটা আশাবাদী ছিলাম। সেই আশার জায়গা থেকেই বন্ধুরা সবাই একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। সকালে এসেও দেখি বড় বড় লাইন। লাইন মেনে যাকে যোগ্য মনে হয় তাকে ভোট দেব।’

মনিরুলের বন্ধু কুমারগাড়া গ্রামের অন্তর হোসেনও একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন। অভিব্যক্তিতে এই তরুণ বলেন, ‘গতবারের নির্বাচনে একজন প্রার্থী ছিল। পছন্দ হোক বা নাহোক ভোট দিতে এসেছিলাম এবং ভোট দিতেও পেরেছিলাম। তবে অনেকেই ভোট দিতে আসলেও ফিরে যেতে হয়েছে। তারা আমার সঙ্গে ফিরে গেছে। পার্থক্য আমি দিয়ে আর তারা না দিয়ে ফিরে গেছেন। তবে এবার অধিকাংশই ভোটের মাঠে আসছেন। স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিচ্ছেন। একটা উৎসব উৎসব আমেজ চলছে। শুধু জেতার জন্য এই উৎসব নষ্ট করা উচিত না।’

বোথরগ্রামের নাইম হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালে ভোটার হয়েছি। ভোট ডাকাতির জন্য ২০১৮ সালে ভোট দিতে পারিনি। একতরফা নির্বাচনের জন্য ২০২৪ সালে কেন্দ্রেই যাই নাই। এবারের পরিবেশ ভালো। প্রার্থীও অনেক। একটা আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই আনন্দে আনন্দে লাইনে দাঁড়িয়েছি ভোট দিতে।’

মনিরুলের আরেক বন্ধু রুবেল হোসেন বলেন, ‘২০২৪ এর নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে এসে শুনি ভোট আগেই নাকি হয়ে গেছে। সেবার মৃত ব্যক্তিরও ভোট হয়ে গিয়েছিল। সব দলের অংশগ্রহণ ছিল না। এবার অন্য সবার অংশগ্রহণ থাকলেও আওয়ামীলীগ নেই। তবুও তাদের আমরা মিস করছি না। কারণ তারা ভোট হত্যা করেছে। তাদের শিক্ষার প্রয়োজন ছিল।’

তিনটি উপজেলা নিয়ে চলনবিল বিধৌত এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এদের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আলী আছগার ও ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। আসনটিতে মোট ১৭৬ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮০২ জন।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow