গভীর সংকটে ব্রাজিলের ফুটবল, সংস্কারের দাবি পেলেকন্যার
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দেশ ব্রাজিলের সংকট খেলোয়াড় তৈরিতে নয়, বরং ফুটবল প্রশাসনের ভেতরেই- এমনই মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি পেলের জ্যেষ্ঠ কন্যা কেলি ক্রিস্টিনা নাসিমেন্তো। তার দাবি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতাই জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে আধুনিক ও কার্যকর ফুটবল কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সমাজকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কেলি নাসিমেন্তো বলেন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কার্যত ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতি হোক বা অন্য কোনো কারণ, পুরো ব্যবস্থাটি এমনভাবে পরিচালিত হয় যে বাইরের কেউ এর ভেতরের চিত্র দেখতে পারে না। সবাই জানে কোথায় সমস্যা, কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। যদিও তিনি মনে করেন, সমস্যাটি খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে নয়। ব্রাজিলে এখনও বিশ্বের সেরা প্রতিভাবান ফুটবলারদের জন্ম হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রতিভাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মতো একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ফুটবল কাঠামোর অভাব রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না দলটি। স
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দেশ ব্রাজিলের সংকট খেলোয়াড় তৈরিতে নয়, বরং ফুটবল প্রশাসনের ভেতরেই- এমনই মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি পেলের জ্যেষ্ঠ কন্যা কেলি ক্রিস্টিনা নাসিমেন্তো।
তার দাবি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতাই জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে আধুনিক ও কার্যকর ফুটবল কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সমাজকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কেলি নাসিমেন্তো বলেন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কার্যত ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতি হোক বা অন্য কোনো কারণ, পুরো ব্যবস্থাটি এমনভাবে পরিচালিত হয় যে বাইরের কেউ এর ভেতরের চিত্র দেখতে পারে না। সবাই জানে কোথায় সমস্যা, কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
যদিও তিনি মনে করেন, সমস্যাটি খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে নয়। ব্রাজিলে এখনও বিশ্বের সেরা প্রতিভাবান ফুটবলারদের জন্ম হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রতিভাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মতো একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ফুটবল কাঠামোর অভাব রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না দলটি।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপে তারা শেষ আটে উঠতে ব্যর্থ হলো। সর্বশেষ ২০০২ সালে রোনালদোদের হাত ধরে রেকর্ড পঞ্চম ও এখন পর্যন্ত সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর দুই দশকের বেশি সময় কেটে গেলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে আর শিরোপার দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
নাসিমেন্তো জানান, তার বাবা পেলে জীবদ্দশায়ও ব্রাজিলের ফুটবলের এই অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। তার বিশ্বাস ছিল, বিশ্বের অন্যান্য সফল ফুটবল দেশের মতো ব্রাজিলকেও আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে বলেন, দেশটি পরিকল্পিত ও কার্যকর ফুটবল ব্যবস্থার মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তবে সবকিছুর মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন পেলের কন্যা। তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর পুনরুজ্জীবন আশাব্যঞ্জক একটি প্রবণতা। উদাহরণ হিসেবে তিনি বোটাফোগো ক্লাবের কথা উল্লেখ করেন। ২০২২ সালে মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটর ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা নেয়ার পর থেকে দলটির পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে এবং ক্লাবটি আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরে এসেছে।
জন টেক্সটরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তার কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন নাসিমেন্তো। তিনি বলেন, টেক্সটর অন্তত ক্লাব পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারী হওয়ায় তাকে একটি বৃহত্তর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কাছে জবাবদিহি করতে হয়, যা ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের জন্যও ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে।
নাসিমেন্তোর মতে, ব্রাজিলের ফুটবলকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে নিতে হলে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করলেই হবে না; প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: রয়টার্স
What's Your Reaction?