গরম ভাতে ঘি খান, মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে জানলে অবাক হবেন

রান্নাঘরের এক কোণে থাকা সুগন্ধি ঘি কেবল খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, মস্তিষ্কের ধার বাড়াতেও এর ভূমিকা নিয়ে হাজার বছরের বিশ্বাস রয়েছে। ভারতীয় আয়ুর্বেদে ঘিকে বলা হয় স্মৃতিবর্ধক উপাদান। তবে আধুনিক বিজ্ঞান এ বিষয়ে কী বলছে? সত্যিই কি ঘি মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে? ২০২৬ সালের ব্যস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে যখন স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের ঘাটতি বা ‘ব্রেন ফগ’-এর মতো সমস্যা বাড়ছে, তখন কেন ঘি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। বিজ্ঞানের চোখে ঘি ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য  আয়ুর্বেদে ঘিকে বলা হয় ‘মেধ্য রসায়ন’, যা স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও এই ধারণার পক্ষে বেশ কিছু শক্ত যুক্তি তুলে ধরছে। ১. ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় ৬০ শতাংশই ফ্যাট দিয়ে তৈরি। ঘি-তে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষ করে DHA) মস্তিষ্কের কোষের গঠন মজবুত করে। এতে স্নায়বিক সংযোগ (নিউরোট্রান্সমিশন) দ্রুত হয়, ফলে শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। ২. বিউটাইরিক অ্যাসিডের ম্যাজিক ঘি-তে প

গরম ভাতে ঘি খান, মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে জানলে অবাক হবেন

রান্নাঘরের এক কোণে থাকা সুগন্ধি ঘি কেবল খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, মস্তিষ্কের ধার বাড়াতেও এর ভূমিকা নিয়ে হাজার বছরের বিশ্বাস রয়েছে। ভারতীয় আয়ুর্বেদে ঘিকে বলা হয় স্মৃতিবর্ধক উপাদান। তবে আধুনিক বিজ্ঞান এ বিষয়ে কী বলছে? সত্যিই কি ঘি মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে?

২০২৬ সালের ব্যস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে যখন স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের ঘাটতি বা ‘ব্রেন ফগ’-এর মতো সমস্যা বাড়ছে, তখন কেন ঘি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস

বিজ্ঞানের চোখে ঘি ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য 

আয়ুর্বেদে ঘিকে বলা হয় ‘মেধ্য রসায়ন’, যা স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও এই ধারণার পক্ষে বেশ কিছু শক্ত যুক্তি তুলে ধরছে।

১. ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস

মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় ৬০ শতাংশই ফ্যাট দিয়ে তৈরি। ঘি-তে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষ করে DHA) মস্তিষ্কের কোষের গঠন মজবুত করে। এতে স্নায়বিক সংযোগ (নিউরোট্রান্সমিশন) দ্রুত হয়, ফলে শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।

২. বিউটাইরিক অ্যাসিডের ম্যাজিক

ঘি-তে প্রচুর বিউটাইরিক অ্যাসিড (Butyric Acid) থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে (Gut–Brain Axis)। ঘি অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও মেজাজ ভালো রাখে।

৩. ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের শক্তি

ঘি-তে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে। এর মধ্যে ভিটামিন ই মস্তিষ্কের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। ফলে আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো বয়সজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।

৪. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক

ঘি-তে থাকা কোলিন (Choline) মস্তিষ্কের সংকেত আদান–প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ ঘি খেলে ফোকাস বাড়ে, মানসিক ক্লান্তি ও অবসাদ কমতে পারে।

কীভাবে খাবেন এবং কতটা?

মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ উপকার পেতে ঘি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি—

সকালে খালি পেটে : আয়ুর্বেদ মতে, সকালে এক চামচ ঘি হালকা গরম পানির সঙ্গে বা খালি পেটে খেলে তা দ্রুত কোষে পুষ্টি জোগায়।

ভাতের সঙ্গে : দুপুরের খাবারে গরম ভাতে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমে এবং শক্তি ধীরে ধীরে মুক্ত হয়।

পরিমাণ : একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১–২ চামচ (১০–১৫ মিলি) ঘি নিরাপদ। তবে হৃদরোগ, কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সারকথা

স্বাদ আর ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে আধুনিক গবেষণাও বলছে— পরিমিত ঘি মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে। তাই প্রতিদিনের গরম ভাতে এক চামচ ঘি যোগ করাই হতে পারে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ানোর সহজ অভ্যাস।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow