গর্ভাবস্থায় যে কারণে বাড়ে রক্তচাপ
মা হওয়া জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই আনন্দের পথ সব সময় সহজ হয় না। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীই বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হন, যার মধ্যে অন্যতম হলো রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া। অনেক সময় এটি সাময়িক ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা মারাত্মক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কেন গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ে, সেটি জানা জরুরি। গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ার বিষয়টি কী? গর্ভাবস্থায় যদি একজন নারীর রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার (১২০/৮০ মিমি পারদ) চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন সেটিকে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। এটি সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়, গেস্টেশনাল হাইপারটেনশন (গর্ভাবস্থায় নতুন করে উচ্চ রক্তচাপ), প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া (উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে অন্যান্য জটিলতা)। কেন গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ে? হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় শরীরে এস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলো রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে, ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে হার্টকে বেশি কাজ করতে হয় এবং অনেক সময় র
মা হওয়া জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই আনন্দের পথ সব সময় সহজ হয় না। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীই বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হন, যার মধ্যে অন্যতম হলো রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া। অনেক সময় এটি সাময়িক ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা মারাত্মক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কেন গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ে, সেটি জানা জরুরি।
গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ার বিষয়টি কী?
গর্ভাবস্থায় যদি একজন নারীর রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার (১২০/৮০ মিমি পারদ) চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন সেটিকে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। এটি সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়, গেস্টেশনাল হাইপারটেনশন (গর্ভাবস্থায় নতুন করে উচ্চ রক্তচাপ), প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া (উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে অন্যান্য জটিলতা)।
কেন গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ে?
- হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় শরীরে এস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলো রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে, ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে।
- রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে হার্টকে বেশি কাজ করতে হয় এবং অনেক সময় রক্তচাপও বেড়ে যায়।
- প্লাসেন্টার ভূমিকা: প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল ভ্রূণের পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। যদি প্লাসেন্টার রক্তনালীগুলো ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে মায়ের শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
- ওজন বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই ওজন বাড়ে। তবে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে তা হার্ট ও রক্তনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে। উদ্বেগ, ভয় বা দুশ্চিন্তা রক্তচাপ বাড়ানোর একটি বড় কারণ।
- আগের স্বাস্থ্য সমস্যা: যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- বয়স ও প্রথম গর্ভধারণ: ৩০ বছরের বেশি বয়সে প্রথমবার গর্ভধারণ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
- অনিয়মিত জীবনযাপন: অপর্যাপ্ত ঘুম, অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, এসবও রক্তচাপ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন:
এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ অবহেলা করলে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেমন-
- প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
- অকাল প্রসব
- শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
- গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা এক্ল্যাম্পসিয়া
কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়?
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা
- লবণ কম খাওয়া
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম
- হালকা ব্যায়াম (চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে)
- মানসিক চাপ কম রাখা
গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে এটি অবহেলা করার মতো বিষয়ও নয়। সময়মতো সঠিক কারণ জানা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মা ও সন্তানের সুস্থতার জন্য সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
জেএস/
What's Your Reaction?