গাইবান্ধায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

গাইবান্ধা শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহরের ভি-এইড রোডে অবস্থিত গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত 'জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে' গত বছরের ২৮ আগস্ট মুর্শিদ হক্কানী (৩৭) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে ভর্তি করা হয়। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য সেখানে ভর্তি করেন।ভুক্তভোগীর বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—বাঁধন (৩৫), লাবিব (৩২), সিয়াম (৩৫), আতিক (৩৬) ও তালহা (৩৫)। তবে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসার শুরুতে পরিবারের সদস্যদের রোগীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তা সীমিত করে দেওয়া হ

গাইবান্ধায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

গাইবান্ধা শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহরের ভি-এইড রোডে অবস্থিত গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত 'জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে' গত বছরের ২৮ আগস্ট মুর্শিদ হক্কানী (৩৭) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে ভর্তি করা হয়। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য সেখানে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—বাঁধন (৩৫), লাবিব (৩২), সিয়াম (৩৫), আতিক (৩৬) ও তালহা (৩৫)। তবে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসার শুরুতে পরিবারের সদস্যদের রোগীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তা সীমিত করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে স্বজনরা মুর্শিদ হক্কানীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রথমে অসংলগ্ন আচরণ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে দেখা করার সুযোগ দিলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। নাকের ওপর কাটা দাগসহ হাত, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলা ও জখমের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, পরে কেন্দ্রের পাওনা পরিশোধ করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে মুর্শিদ হক্কানী জানান, কেন্দ্রের ভেতরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে একটি ঘরে নিয়ে মারধর করা হয় এবং নির্যাতনের ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বলেন, "ছোট ভাইকে সুস্থ করার আশায় ওই কেন্দ্রে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু উল্টো তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow