গাজাগামী নৌবহরের ৪২২ কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল

গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এবং ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন–এর আটক কর্মীদেরকে ইসরাইলের কেতজিওত কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এসব মানবাধিকারকর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এই তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ। এক বিবৃতিতে আদালাহ জানায়, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিয়তা পেয়েছে যে, আটক কেন্দ্রটিতে থাকা সব কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। আদালাহ ছাড়াও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতে জানায়, ৪১টি দেশের ৪২২ জন মানবিক সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ জন তুর্কি নাগরিক ছিলেন, যারা গ্লোবাল সুমুদ নৌবহরের অংশ ছিলেন। এদিকে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর রন ওয়েডেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিনি এই সমালোচনা করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রন ওয়েডেন বলেন, এই আচর

গাজাগামী নৌবহরের ৪২২ কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল

গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এবং ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন–এর আটক কর্মীদেরকে ইসরাইলের কেতজিওত কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এসব মানবাধিকারকর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এই তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় হামলা চালানোর দৃশ্য/ ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

এক বিবৃতিতে আদালাহ জানায়, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিয়তা পেয়েছে যে, আটক কেন্দ্রটিতে থাকা সব কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে।

আদালাহ ছাড়াও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতে জানায়, ৪১টি দেশের ৪২২ জন মানবিক সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ জন তুর্কি নাগরিক ছিলেন, যারা গ্লোবাল সুমুদ নৌবহরের অংশ ছিলেন।

এদিকে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর রন ওয়েডেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিনি এই সমালোচনা করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রন ওয়েডেন বলেন, এই আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

বুধবার (২০ মে) ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করার পর ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীদের হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাদের নিয়ে তিনি বিদ্রূপ করছেন।

ওয়াইডেন বলেন, বেন-গভিরের এই আচরণ, ইহুদি মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পক্ষে আমি লড়াই চালিয়ে যাব। আমি এমন একটি বিল উত্থাপন করেছি, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা আটকে দেওয়া কোনো সরকারি নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এদিকে আদালাহ সংগঠনটি জানায়, ফ্লোটিলা নৌবহরে থাকা অংশগ্রহণকারীকে বিমানে করে নিজ দেশে পাঠানোর জন্য রামন বিমানবন্দরে নেওয়া হচ্ছে।

আদালাহ আরও জানায়, তাদের আইনি দল পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো বিলম্ব ছাড়াই সব কর্মীকে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

মানবাধিকার সংগঠনটি কর্মীদের আটকের ঘটনাকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধভাবে নৌযান আটক করা থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ কর্মীদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন, অপমান এবং ইচ্ছামতো আটক-সবই আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে আদালাহ জানায়, ইসরাইলি নাগরিকত্বধারী কর্মী জোহার রেগেভ–এর বিষয়ে আশকেলন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি চলছে।সংগঠনটির দাবি, গাজা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা, অবৈধভাবে ইসরাইলে প্রবেশ এবং অবৈধ অবস্থান–এর মতো ভিত্তিহীন ও পরস্পরবিরোধী অভিযোগে রেগেভকে আটক রাখা হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের আইনি দল আদালতে রেগেভের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তার তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর আরোপিত অবৈধ ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে এটি নতুন প্রচেষ্টা ছিল। এর আগে এপ্রিলের শেষভাগে, গ্রিসের ক্রেট দ্বীপের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলার নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেই বহরে ৩৯টি দেশের ৩৪৫ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যার মধ্যে তুর্কি নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর একটি মারাত্মক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। এর ফলে সেখানকার ২৪ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকট ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় তীব্র আক্রমণ শুরু করে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজা উপত্যকায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এছাড়া দখলদার বাহিনীর আগ্রাসনে আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow