গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বিশ্বব্যবস্থাকে বিপন্ন করছে : বিশ্ব নেতারা
গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা এবং এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশ্বনেতারা বলছেন, এর ফলে বিশ্বব্যবস্থা বিপন্ন হয়েছে। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ১৭তম আল জাজিরা ফোরামে এসব মন্তব্য করেন বিশ্বনেতারা। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোরামে বক্তব্য দেওয়া জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, গাজার যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে রূপ নিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এই সংঘাত ফিলিস্তিন ইস্যুকে আবারও বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী প্রধান কৌশলগত প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আরাগচি বলেন, গাজায় যা ঘটছে, তা শুধু যুদ্ধ নয়। এটি বেসামরিক মানুষের জীবন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার এক ভয়াবহ উদাহরণ। এটি গণহত্যা। এই সহিংসতা মানবতার বিবেককে আহত করেছে এবং বেসামরিক জনগণের
গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা এবং এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশ্বনেতারা বলছেন, এর ফলে বিশ্বব্যবস্থা বিপন্ন হয়েছে। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ১৭তম আল জাজিরা ফোরামে এসব মন্তব্য করেন বিশ্বনেতারা।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফোরামে বক্তব্য দেওয়া জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, গাজার যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে রূপ নিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এই সংঘাত ফিলিস্তিন ইস্যুকে আবারও বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী প্রধান কৌশলগত প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
আরাগচি বলেন, গাজায় যা ঘটছে, তা শুধু যুদ্ধ নয়। এটি বেসামরিক মানুষের জীবন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার এক ভয়াবহ উদাহরণ। এটি গণহত্যা। এই সহিংসতা মানবতার বিবেককে আহত করেছে এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ব্যর্থতা উন্মোচিত করেছে।
তিনি বলেন, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ফিলিস্তিনে সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে আইনের জায়গায় শক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার দায়মুক্তি ভবিষ্যতে সামরিক আধিপত্যকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত করতে পারে বলেও সতর্ক করেন আরাগচি।
তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ লক্ষ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা স্থগিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহির আহ্বান জানান।
ফোরামের পর আল জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার দ্বিতীয় দফা আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে, যদিও তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই ঝুঁকি সবসময়ই থাকে, তবে ইরান শান্তি ও যুদ্ধ উভয়ের জন্যই প্রস্তুত। তিনি আশ্বস্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে ইরান শুধু মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করবে, আঞ্চলিক দেশগুলোকে নয়।
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন থামের আল থানি বলেন, ইসরায়েল গাজা পুনর্দখল, জনগণকে উচ্ছেদ এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে চাইছে। তিনি গাজা যুদ্ধ কাভার করতে গিয়ে নিহত সাংবাদিকদের স্মরণ করে বলেন, সত্য তুলে ধরার কারণেই আল জাজিরার সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, গাজার যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে আনছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল, তা আজ গুরুতর হুমকির মুখে।
তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান বলেন, গাজা যুদ্ধ প্রমাণ করে দিয়েছে যে বিশ্ব ইতোমধ্যেই এক ঐতিহাসিক ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গণহত্যা এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক ধরনের সহনীয় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূল নীতি হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।
What's Your Reaction?