গাজায় শীতের দাপটে ৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নতুন বিপদ হিসেবে তীব্র শীত, প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা আরও তীব্র হয়েছে। খবর আল জাজিরার। গাজার সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একটি এক বছর বয়সী শিশু ডেইর আল বালাহর আল আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁবুতে মারা যায়। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার মঙ্গলবার বলেছেন, এই শীতকালে এখন পর্যন্ত ছয়জন শিশু হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগায়) মারা গেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনধসে পড়ায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় আল শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, একটি ভবনধসে পড়লে তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন ১৫ বছরের কিশোরী মেয়ে। আরেকটি পৃথক ঘটনায় গাজা সিটিতে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন, এই ঝড় গাজার জনগণের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ মা

গাজায় শীতের দাপটে ৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নতুন বিপদ হিসেবে তীব্র শীত, প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা আরও তীব্র হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একটি এক বছর বয়সী শিশু ডেইর আল বালাহর আল আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁবুতে মারা যায়। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার মঙ্গলবার বলেছেন, এই শীতকালে এখন পর্যন্ত ছয়জন শিশু হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগায়) মারা গেছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনধসে পড়ায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় আল শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, একটি ভবনধসে পড়লে তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন ১৫ বছরের কিশোরী মেয়ে। আরেকটি পৃথক ঘটনায় গাজা সিটিতে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন, এই ঝড় গাজার জনগণের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে এবং ইসরায়েলের অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রয়োজনীয় আশ্রয় সামগ্রী, তাঁবু ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রবেশ করতে পারছে না।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল এই চুক্তি লঙ্ঘন করে মানবিক সহায়তা ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গাজার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বাস করছেন, যা শীত ও ঝড়ের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, ইউএনের তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক ঝড়ে হাজার হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত বা উড়ে গেছে এবং যুদ্ধ-ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আরও ভেঙে পড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং অবিলম্বে আশ্রয় সামগ্রী ও সহায়তা প্রবেশের দাবি জানিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow