গাড়িতে সকালে পেট্রোল ভরলে কি বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়?

জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালকদের মধ্যে একটি ধারণা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, ভোরবেলা বা গভীর রাতে পেট্রোল-ডিজেল ভরলে একই টাকায় বেশি জ্বালানি পাওয়া যায়। কারণ ঠান্ডা আবহাওয়ায় জ্বালানি নাকি বেশি ঘন থাকে। ফলে গাড়ির মাইলেজও নাকি বাড়ে। কিন্তু এই ধারণার পেছনে কতটা সত্যতা রয়েছে? নাকি এটি শুধু মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচলিত গুজব? কোথা থেকে এল এই ধারণা? পেট্রোল ও ডিজেল তরল পদার্থ। বিজ্ঞান অনুযায়ী, তাপমাত্রা বাড়লে বেশিরভাগ তরল কিছুটা প্রসারিত হয় এবং তাপমাত্রা কমলে সঙ্কুচিত হয়। এই কারণেই অনেকে মনে করেন, সকালে তাপমাত্রা কম থাকায় পেট্রোল বেশি ঘন অবস্থায় থাকে এবং একই পরিমাণ জ্বালানিতে বেশি শক্তি পাওয়া সম্ভব। শুনতে যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। পেট্রোল পাম্পে কী ঘটে? সাধারণত পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি মাটির নিচে থাকা বিশাল ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হয়। এই ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কগুলো বাইরের আবহাওয়ার প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। ফলে বাইরে প্রচণ্ড গরম বা ঠান্ডা হলেও ট্যাঙ্কের ভেতরের জ্বালানির তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকে। অর্থাৎ আপনি সকাল ৬টায় পেট্রোল নিন বা দুপুর

গাড়িতে সকালে পেট্রোল ভরলে কি বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়?

জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালকদের মধ্যে একটি ধারণা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, ভোরবেলা বা গভীর রাতে পেট্রোল-ডিজেল ভরলে একই টাকায় বেশি জ্বালানি পাওয়া যায়। কারণ ঠান্ডা আবহাওয়ায় জ্বালানি নাকি বেশি ঘন থাকে। ফলে গাড়ির মাইলেজও নাকি বাড়ে।

কিন্তু এই ধারণার পেছনে কতটা সত্যতা রয়েছে? নাকি এটি শুধু মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচলিত গুজব?

কোথা থেকে এল এই ধারণা?

পেট্রোল ও ডিজেল তরল পদার্থ। বিজ্ঞান অনুযায়ী, তাপমাত্রা বাড়লে বেশিরভাগ তরল কিছুটা প্রসারিত হয় এবং তাপমাত্রা কমলে সঙ্কুচিত হয়। এই কারণেই অনেকে মনে করেন, সকালে তাপমাত্রা কম থাকায় পেট্রোল বেশি ঘন অবস্থায় থাকে এবং একই পরিমাণ জ্বালানিতে বেশি শক্তি পাওয়া সম্ভব। শুনতে যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

পেট্রোল পাম্পে কী ঘটে?

সাধারণত পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি মাটির নিচে থাকা বিশাল ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হয়। এই ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কগুলো বাইরের আবহাওয়ার প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। ফলে বাইরে প্রচণ্ড গরম বা ঠান্ডা হলেও ট্যাঙ্কের ভেতরের জ্বালানির তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকে। অর্থাৎ আপনি সকাল ৬টায় পেট্রোল নিন বা দুপুর ২টায়, পাম্প থেকে বের হওয়া জ্বালানির তাপমাত্রায় খুব বেশি পার্থক্য থাকে না।

তাহলে কি সকালে পেট্রোল ভরলে লাভ নেই?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে পেট্রোল ভরালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ জ্বালানির ঘনত্বে যে সামান্য পরিবর্তন হয়, তা এতটাই কম যে বাস্তব ব্যবহারে তার কোনো প্রভাব প্রায় চোখে পড়ে না। ফলে সকালে, বিকেলে বা রাতে যে সময়ই জ্বালানি ভরান না কেন, গাড়ির মাইলেজে তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

মাইলেজ বাড়ানোর আসল উপায় কী?

অনেক চালক পেট্রোল ভরার সময় নিয়ে চিন্তা করলেও মাইলেজের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে চালানোর অভ্যাস।

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন—

  • টায়ারের বায়ুচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় দ্রুত গতি বৃদ্ধি ও হঠাৎ ব্রেক এড়িয়ে চলুন।
  • দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
  • গাড়ির নিয়মিত সার্ভিসিং করান।
  • সম্ভব হলে একই গতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করুন।

এসব অভ্যাস জ্বালানি সাশ্রয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

ট্যাঙ্ক পুরো খালি হওয়ার অপেক্ষা করবেন না

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাড়ির ট্যাঙ্ক প্রায় খালি হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানি ভরার অভ্যাস ভালো নয়। এতে ফুয়েল পাম্পের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। পাশাপাশি ট্যাঙ্কের নিচে জমে থাকা ময়লা বা অবশিষ্ট কণাও ফুয়েল সিস্টেমে প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ফুয়েল গেজ এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি নেমে এলে জ্বালানি ভরে নেওয়াই ভালো।

আসল সত্য কী?

সকালে বা রাতে পেট্রোল ভরলে বেশি মাইলেজ পাওয়া যায় এমন ধারণার পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলেও আধুনিক পেট্রোল পাম্পের বাস্তবতায় এর প্রভাব প্রায় নগণ্য। তাই নির্দিষ্ট সময়ে পেট্রোল ভরার চেয়ে গাড়ির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতন ড্রাইভিং অভ্যাসই জ্বালানি সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অর্থাৎ বেশি মাইলেজের রহস্য পেট্রোল ভরার সময়ে নয়, বরং আপনার ড্রাইভিং স্টাইলেই লুকিয়ে আছে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow