গারো পাহাড়ের বন উজাড় ও বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় গারো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও ব্যানার স্থাপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘ঝিনাইগাতী সম্মিলিত তরুণ সমাজ’। কর্মসূচিটি উপজেলার সীমান্ত সড়কের দরবেশতলা এলাকায় শুরু হয়ে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গারো পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল হলেও অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন, নির্বিচারে বন উজাড় এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এ অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তারা সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এ ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান জানান। পাবলিক স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইগাতীর প্রতিনিধি জিহান আহমেদ বলেন, ‘পুরোনো বড় বৃক্ষ একটি বনভূমির স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো গাছ সংরক্ষণ করে নতুন চারাগাছের বিস্তার নিশ্চিত করতে হবে।’ শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ মাস পাখিদের প্রজনন মৌসুম। এসময় বন উজাড় করলে পাখিদের প্রজনন মারাত্মকভাব

গারো পাহাড়ের বন উজাড় ও বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় গারো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও ব্যানার স্থাপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘ঝিনাইগাতী সম্মিলিত তরুণ সমাজ’। কর্মসূচিটি উপজেলার সীমান্ত সড়কের দরবেশতলা এলাকায় শুরু হয়ে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গারো পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল হলেও অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন, নির্বিচারে বন উজাড় এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এ অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তারা সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এ ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান জানান।

পাবলিক স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইগাতীর প্রতিনিধি জিহান আহমেদ বলেন, ‘পুরোনো বড় বৃক্ষ একটি বনভূমির স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো গাছ সংরক্ষণ করে নতুন চারাগাছের বিস্তার নিশ্চিত করতে হবে।’

শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ মাস পাখিদের প্রজনন মৌসুম। এসময় বন উজাড় করলে পাখিদের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই এ মৌসুমে গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে আইন প্রণয়ন জরুরি।’

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সদস্য জামান আহমেদ বলেন, ‘বালু উত্তোলনের কারণে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এতে বন্যপ্রাণীর পানির উৎস ধ্বংস হচ্ছে। কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।’

বাংলাদেশ বনবিভাগের শেরপুর রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর ইমন বলেন, ‘গারো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনবিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।’

মো. নাঈম ইসলাম/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow