গৃহবধূ বনাম গৃহকর্মী

আজকের ডিজিটাল যুগে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্ক প্রায়ই চোখে পড়ে-গৃহবধূ বনাম গৃহকর্মী। সম্প্রতি এক গৃহকর্মীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কথাটি বলার ধরন হয়তো কষ্টদায়ক বা কটূক্তিকর ছিল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি বাস্তব সামাজিক বার্তা, যা আজকের দিনে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য গভীরভাবে ভাবনার বিষয়। আমাদের সমাজে বা প্রবাসে একজন মধ্যবিত্ত গৃহবধূ সারাদিন ঘরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। রান্না করা, ঘর সামলানো, সন্তান দেখাশোনা, স্বামীর পরিবার সামলানো কিংবা অতিথি আপ্যায়ন; এই কাজগুলোর কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা ছুটি নেই। অথচ একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এই কাজগুলোর বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য আছে। একটি পরিবার যদি বাইরে থেকে রান্নার লোক, বেবিসিটার বা কেয়ারগিভার রাখত, তবে মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ হতো। তাই ঘরের নারীদের এই ২৪ ঘণ্টার শ্রমকে ‘কিছুই না’ বা ‘বসে বসে খাওয়া’ বলা চরম অন্যায়। বিতর্কের অন্য পিঠে যে গৃহকর্মী কথাটি বলেছেন, তার দিকটিও দেখার মতো। তিনি নিজের শারীরিক শ্রমকে একটি সুনির্দিষ্ট আয়ের উৎসে রূপান্তর করেছেন। পাঁচ বাসায় কাজ করে যদি তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা রোজগার করেন, তবে

গৃহবধূ বনাম গৃহকর্মী

আজকের ডিজিটাল যুগে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্ক প্রায়ই চোখে পড়ে-গৃহবধূ বনাম গৃহকর্মী। সম্প্রতি এক গৃহকর্মীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কথাটি বলার ধরন হয়তো কষ্টদায়ক বা কটূক্তিকর ছিল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি বাস্তব সামাজিক বার্তা, যা আজকের দিনে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য গভীরভাবে ভাবনার বিষয়।

আমাদের সমাজে বা প্রবাসে একজন মধ্যবিত্ত গৃহবধূ সারাদিন ঘরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। রান্না করা, ঘর সামলানো, সন্তান দেখাশোনা, স্বামীর পরিবার সামলানো কিংবা অতিথি আপ্যায়ন; এই কাজগুলোর কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা ছুটি নেই।

অথচ একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এই কাজগুলোর বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য আছে। একটি পরিবার যদি বাইরে থেকে রান্নার লোক, বেবিসিটার বা কেয়ারগিভার রাখত, তবে মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ হতো। তাই ঘরের নারীদের এই ২৪ ঘণ্টার শ্রমকে ‘কিছুই না’ বা ‘বসে বসে খাওয়া’ বলা চরম অন্যায়।

বিতর্কের অন্য পিঠে যে গৃহকর্মী কথাটি বলেছেন, তার দিকটিও দেখার মতো। তিনি নিজের শারীরিক শ্রমকে একটি সুনির্দিষ্ট আয়ের উৎসে রূপান্তর করেছেন। পাঁচ বাসায় কাজ করে যদি তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা রোজগার করেন, তবে তিনি একজন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল নারী। নিজের পরিশ্রমে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এই নারীর আত্মবিশ্বাসকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

তবে সমস্যা হলো, নিজের আত্মনির্ভরতা দেখাতে গিয়ে অন্য একজন নারীকে বা ঘরের গৃহিণীকে ছোট করা কখনোই সমীচীন নয়। গৃহকর্মী ও গৃহবধূ-দুজনেই আসলে নিজ নিজ জায়গায় শ্রমজীবী নারী। একজনের শ্রমের টাকা মাস শেষে হাতে আসে, আর অন্যজনের শ্রম পুরো পরিবারকে সচল ও টিকিয়ে রাখে। তাই এখানে তুলনা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মানটাই আসল।

এই বিতর্ক থেকে গৃহবধূদেরও কিছু নেওয়ার আছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে শুধু ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। ঘরে বসেই কম্পিউটার শেখা, অনলাইন কাজ, ছোটখাটো ই-কমার্স ব্যবসা, ক্যাটারিং, সেলাই, বিউটি পার্লার বা কনটেন্ট রাইটিংয়ের মতো অসংখ্য আয়ের পথ এখন উন্মুক্ত।

নারী ঘরে থেকে পরিবার সামলান কিংবা বাইরে গিয়ে অর্থ উপার্জন করুন-তার শ্রম, সম্মান এবং আত্মনির্ভরতার অধিকার সমান। প্রবাসে বা দেশে, যেখানেই হোক না কেন, নারীর এই নীরব অবদানকে সম্মান জানাতে শিখলেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow