গোলাহাট গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণে ঢাকায় সভা
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাটে সংঘটিত গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্তিতে স্মরণ সভা ও আলোচনা সভা হয়েছে। ‘জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরাম’ এবং ‘বাংলা ভুবন ঐকতান’-এর যৌথ উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর নিমতলীতে অবস্থিত এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে এ বিশেষ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াবহ দিনটির স্মৃতিচারণ করেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ গণহত্যার স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জেবুন্নেছা আদিত্যপুর গণহত্যা, কালীগঞ্জ গণহত্যা এবং ছাতনী গণহত্যা নিয়েও কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুরের শহীদ পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ না হলে যে দেশটার জন্ম হতো না, সেই দেশে জন্ম নিয়ে আমরা তেমন ঘটা করে কোনো আয়োজন করি না। আমার দেশ মুক্তিযোদ্ধা তৈরির হ্যাচারি। কিন্তু আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী লেখছি, যেখানে অন্য শহীদদের ক্ষেত্রে জাত তৈরি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও খণ্ড বিখণ্ড করা হয়ে
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাটে সংঘটিত গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্তিতে স্মরণ সভা ও আলোচনা সভা হয়েছে। ‘জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরাম’ এবং ‘বাংলা ভুবন ঐকতান’-এর যৌথ উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর নিমতলীতে অবস্থিত এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে এ বিশেষ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াবহ দিনটির স্মৃতিচারণ করেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ গণহত্যার স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জেবুন্নেছা আদিত্যপুর গণহত্যা, কালীগঞ্জ গণহত্যা এবং ছাতনী গণহত্যা নিয়েও কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুরের শহীদ পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ না হলে যে দেশটার জন্ম হতো না, সেই দেশে জন্ম নিয়ে আমরা তেমন ঘটা করে কোনো আয়োজন করি না। আমার দেশ মুক্তিযোদ্ধা তৈরির হ্যাচারি। কিন্তু আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী লেখছি, যেখানে অন্য শহীদদের ক্ষেত্রে জাত তৈরি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও খণ্ড বিখণ্ড করা হয়েছিল। আমার এখন শঙ্কাও হয়, আমি জানি না এ দেশ আদৌ মুক্তিযুদ্ধের দেশ হবে কি না?’
অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান ফউজুল আজিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের যেসব স্থানে বিহারী অধ্যুষিত ছিল সেসব স্থানেই অধিক হারে গণহত্যা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধে আমরা বাঙালিরা কখনোই আগে আক্রমণ করিনি। বিহারী এবং পাকিস্তানিরাই সর্বপ্রথম আমাদের আক্রমণ করেছে এবং পরে আমরা সেই আক্রমণ প্রতিহত করেছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও গবেষকরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে গোলাহাটের মতো নির্মম গণহত্যার ঘটনাগুলোকে আরও বেশি নথিবদ্ধ ও প্রচার করা প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে এ ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই কেবল সত্য সংরক্ষণ সম্ভব।