গোল বাতিল ও পেনাল্টি মিসে গোলশূন্য ব্রাজিল-নরওয়ের প্রথমার্ধ

গোল বাতিল ও পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধের খেলায় গোল করতে পারেনি নরওয়ে-ব্রাজিল কোনো দলই। তবে বল দখলে এগিয়ে ছিলো নরওয়ে। আর সুযোগ বেশি তৈরি করেছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতে গোল করেও অফসাইডের কারণে লিড নিতে পারেনি নরওয়ে। কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি পেয়েও মিস করেন ব্রাজিলের গিমারেস। ফলে লিড নিতে পারেনি সেলেসাওরাও। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতাতেই। প্রথমার্ধে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ৪টি আক্রমণ করে দুটি লক্ষ্যে রাখে নরওয়ে। আর ৩৬ শতাংশ বল দখলে রাখা ব্রাজিল ৬ শট নিয়ে নরওয়ের সমান দুটিই লক্ষ্যে রাখে। তৃতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে নরওয়ে। বক্সের ভেতরে আলেকজান্ডার সোরলথ বল পাস বাড়িয়ে দেন প্যাট্রিক বের্গের দিকে। তার শট জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে সোরলথ অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। ম্যাচের ১০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। বক্সের ভেতরে মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। তবে প্রথমে কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি রেফারি। রিপ্ল

গোল বাতিল ও পেনাল্টি মিসে গোলশূন্য ব্রাজিল-নরওয়ের প্রথমার্ধ

গোল বাতিল ও পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধের খেলায় গোল করতে পারেনি নরওয়ে-ব্রাজিল কোনো দলই। তবে বল দখলে এগিয়ে ছিলো নরওয়ে। আর সুযোগ বেশি তৈরি করেছে ব্রাজিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতে গোল করেও অফসাইডের কারণে লিড নিতে পারেনি নরওয়ে। কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি পেয়েও মিস করেন ব্রাজিলের গিমারেস। ফলে লিড নিতে পারেনি সেলেসাওরাও। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতাতেই।

প্রথমার্ধে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ৪টি আক্রমণ করে দুটি লক্ষ্যে রাখে নরওয়ে। আর ৩৬ শতাংশ বল দখলে রাখা ব্রাজিল ৬ শট নিয়ে নরওয়ের সমান দুটিই লক্ষ্যে রাখে।

তৃতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে নরওয়ে। বক্সের ভেতরে আলেকজান্ডার সোরলথ বল পাস বাড়িয়ে দেন প্যাট্রিক বের্গের দিকে। তার শট জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে সোরলথ অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।

ম্যাচের ১০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। বক্সের ভেতরে মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। তবে প্রথমে কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি রেফারি। রিপ্লেতে ঘটনাটি স্পষ্ট হওয়ায় ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটরে গিয়ে আবারও পুরো ঘটনাটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।

পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। বলটি ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে তাকে ছেড়ে দেন সতীর্থরা। রান-আপে গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন ব্রুনো। তবে সঠিক দিক আন্দাজ করে অসাধারণ সেভ করেন ওরইয়ান নিল্যান্ড। ফলে ব্রাজিলকে লিড নিতে দেননি নরওয়ের গোলরক্ষক।

এই পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে চার দশকের একটি রেকর্ড ভেঙেছে সেলেসাওরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিকোর পেনাল্টি মিসের পর বিশ্বকাপের মূল সময়ে (টাইব্রেকার বাদে) আর কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় পেনাল্টি মিস করেননি।

১৮ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে ব্রাজিল। নিজেদের অর্ধে বল কেড়ে নিয়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি দ্রুত এগিয়ে যান প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। এরপর বল বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে। ভিনিসিয়ুস বক্সে থাকা মাতেউস কুনহার উদ্দেশে নিখুঁত ক্রস তুললেও শেষ মুহূর্তে কোনো রকমে বিপদ সামাল দেয় নরওয়ের রক্ষণভাগ।

হাইড্রেশন বিরতির ঠিক আগে ফ্রি-কিক পায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ড ছোট পাসে সেটি খেলেন। তবে কিছুক্ষণ পরই বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়েন মাতেউস কুনিয়া। ডেভিড মোলার উলফের চাপে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে পড়ে পেনাল্টির আবেদন জানান কুনিয়া। কিন্তু এবার ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না। রেফারিও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি।

৩৭ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে আন্তোনিও নুসা ডান পায়ে দারুণ এক ক্রস তুলেছিলেন। তাতে পা ছোঁয়ান আরলিং হলান্ড। তবে তার লব শটটি সহজেই তালুবন্দি করেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকার।

৪০ মিনিটে চাপের মুখে নিজেদের অর্ধে নেমে আসে ব্রাজিল। সেখান থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে লম্বা তির্যক পাস পাঠানো হয়। প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালেও দ্রুতই তা ফিরে পান তিনি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। বল পোস্টের বাইরের দিক ঘেঁষে কর্নারের জন্য মাঠের বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে নরওয়ে। তবে প্রথমেই বল কেড়ে নেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল। কিছুক্ষণ পর আন্তোনিও নুসা কয়েকজন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে এনে বল বাড়িয়ে দেন আর্লিং হালান্ডের কাছে। হালান্ড বক্সের ভেতরে মার্টিন ওডেগার্ডকে দারুণভাবে সেটআপ করে দেন। কিন্তু ওডেগার্ডের শটটি অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। পরের কর্নার থেকেও কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নরওয়ে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সহজেই বিপদ সামাল দেয়।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় ব্রাজিল। দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি নরওয়ে। লম্বা এক পাসে হালান্ডকে খুঁজে নেয় নরওয়ে। যদিও ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা তাকে ভালোভাবেই আটকে রাখেন। ফিরে আসা বল পেয়ে যান মার্টিন ওডেগার্ড। কোনো সময় নষ্ট না করে গোলমুখে শট নিলেও দারুণ প্রতিক্রিয়ায় বল ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।

এরপর পঞ্চম মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিলও। ডান প্রান্ত থেকে দারুণ এক ক্রস তোলেন কাসেমিরো। বলটি বক্সের মাঝখানে থাকা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির উদ্দেশে গেলেও আর্সেনাল ফরোয়ার্ড সেটিতে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। সঠিকভাবে সংযোগ করতে পারলে ব্রাজিলের জন্য এটি হতে পারত দুর্দান্ত এক গোলের সুযোগ।

আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow