গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন, ব্যবহার করছিলেন না ফোন

গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। এমনকি মোবাইলফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বুধবার (৬ মে) র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান ময়মনসিংহ র‍্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোরে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার সাগর নেত্রকোনার মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। সে তার নানির সঙ্গে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করতো। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। কিছুদিন থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে গত ১৮ এপ্রিল উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে ডাক্তার দেখান তার মা। পরে পরীক্ষা করে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান চিকিৎসক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নেত্রকোনার মদন থানায় নারী ও শিশু নি

গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন, ব্যবহার করছিলেন না ফোন

গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। এমনকি মোবাইলফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

বুধবার (৬ মে) র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান ময়মনসিংহ র‍্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে ভোরে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার সাগর নেত্রকোনার মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। সে তার নানির সঙ্গে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করতো। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

কিছুদিন থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে গত ১৮ এপ্রিল উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে ডাক্তার দেখান তার মা। পরে পরীক্ষা করে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান চিকিৎসক।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নেত্রকোনার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মাদরাসাছাত্রী: সেই শিক্ষক গ্রেফতার
অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তা, যা বললেন সেই ‘হুজুর’
ডাক্তারের প্রশ্ন—তোমার সঙ্গে এ কাজ কে করেছে? মেয়েটি বলে ‘হুজুর হুজুর’

মেয়ের মা অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের আদেশে শিশুটি ঝাড়ু দিয়ে মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা পরিষ্কার করতে থাকে। সেই মুহূর্তে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ উঠেছে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে বিভিন্নভাবে হুমকি এবং নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাই আমরা ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছি।’

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাকে আজ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow