ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস, বিপাকে চালক-যাত্রী

দুপুর ১২টায় গ্যাস নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৩টা বাজতে চললেও তখনো গ্যাস পাননি। অথচ ভিআইপি ও সরকারি গাড়ি এলে দ্রুত গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন রাজধানীর মগবাজারের একটি সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রিপন মিয়া। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিদিন গ্যাস সংগ্রহ করতেই ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা চলে যায়। এতে যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাওয়ায় আয়ও কমে যাচ্ছে। রিপন মিয়া বলেন, সকালে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর প্রথম চিন্তা থাকে গ্যাস পাব কিনা। এরপর মালিকের জমার ১ হাজার ১০০ টাকা কখন তুলবো, সব খরচ মিটিয়ে দিন শেষে হাতে কত টাকা থাকবে—এসব চিন্তা করতে হয়। পাশে অপেক্ষমাণ আরেক চালক আনিসুর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটে আগের মতো যাত্রী পরিবহন করতে না পারলেও প্রতিদিন মালিককে ১ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হচ্ছে। কম জমা দিতে চাইলে মালিক গাড়ির চাবি জমা দিয়ে চলে যেতে বলেন বলেও দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন ‘গ্যাস টিমটিম করে আসে, রান্না শেষ হওয়ার আগেই চলে যায়’ শুধু মগবাজার নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস, বিপাকে চালক-যাত্রী

দুপুর ১২টায় গ্যাস নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৩টা বাজতে চললেও তখনো গ্যাস পাননি। অথচ ভিআইপি ও সরকারি গাড়ি এলে দ্রুত গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন রাজধানীর মগবাজারের একটি সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রিপন মিয়া।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিদিন গ্যাস সংগ্রহ করতেই ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা চলে যায়। এতে যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাওয়ায় আয়ও কমে যাচ্ছে।

রিপন মিয়া বলেন, সকালে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর প্রথম চিন্তা থাকে গ্যাস পাব কিনা। এরপর মালিকের জমার ১ হাজার ১০০ টাকা কখন তুলবো, সব খরচ মিটিয়ে দিন শেষে হাতে কত টাকা থাকবে—এসব চিন্তা করতে হয়।

পাশে অপেক্ষমাণ আরেক চালক আনিসুর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটে আগের মতো যাত্রী পরিবহন করতে না পারলেও প্রতিদিন মালিককে ১ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হচ্ছে। কম জমা দিতে চাইলে মালিক গাড়ির চাবি জমা দিয়ে চলে যেতে বলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শুধু মগবাজার নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। পাম্পগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি এখন নিয়মিত দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

গ্যাসের সংকটে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালকদের পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহনেও প্রভাব পড়ছে।

অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরু মিয়া বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের অনেক গাড়ি ঢাকার বাইরে দূরপাল্লার ট্রিপে যেতে পারছে না। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হলে জরুরি রোগীদের আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।

নুরু মিয়ার ভাষ্য, বর্তমানে গ্যাসের অভাবে দূরপাল্লার ট্রিপ এড়িয়ে চলতে হচ্ছে।  রোগী ও তাদের স্বজনদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে সকালে অফিস ও স্কুলগামী এবং সন্ধ্যায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

চালকদের দীর্ঘ সময় গ্যাসের জন্য লাইনে থাকতে হওয়ায় সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আর যে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে তার অনেক চালকই বাড়তি ভাড়া চাইছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

কয়েকজন যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তাদের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে সরবরাহ সংকট থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ে সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে ১০০০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ হয়। তবে বর্তমানে তা কমে প্রায় ৫০০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে।

গ্যাস সংকটের কারণ নিয়ে চালকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। তাদের কেউ কেউ গ্যাসের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং সরবরাহ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন।

কেউ কেউ আবার এ সংকটের পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে দর-কষাকষির কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না, এমন দাবিও করেছেন কয়েকজন চালক।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চালকদের দাবি সরকার চাইলে দ্রুত সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা এবং সংকট নিরসনে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এমইউ/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow