ঘরে-বাইরে পানি, ভোগান্তিতে মানুষ
সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়ি সবখানেই জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি শহর না কোন জলাশয়। টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাত হলেই জামালপুর জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র ফুটে উঠে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা আর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যায় প্রতি বর্ষাতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহায় এমন বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের কাচারিপাড়া, গেইটপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, সরদারপাড়া, বানাকুড়া, দয়াময়ী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে, সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে পরিবেশ। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই প্যান্ট গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ছোট ছোট যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। শহরের বিভিন্ন দোকানপাটেও ঢুকে পড়ে পানি। কাচারিপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি শুর
সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়ি সবখানেই জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি শহর না কোন জলাশয়। টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাত হলেই জামালপুর জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র ফুটে উঠে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা আর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যায় প্রতি বর্ষাতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহায় এমন বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের কাচারিপাড়া, গেইটপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, সরদারপাড়া, বানাকুড়া, দয়াময়ী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে, সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই প্যান্ট গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ছোট ছোট যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। শহরের বিভিন্ন দোকানপাটেও ঢুকে পড়ে পানি।
কাচারিপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। টানা তিন ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে। বাইরে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। সামনে ঈদ, ভাবছিলাম বাজারে যাবো কিন্তু এখন বাসার সামনেই হাঁটুসমান পানি।
বাইক চালক মেহেদী হাসান বলেন, শহরের বিভিন্ন সড়কে এত পানি যে মোটরসাইকেল চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্ত বোঝা যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। কয়েক জায়গায় বাইক বন্ধ হয়ে যেতে দেখেছি।
জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও ভাড়া বাসায় থাকা পরিবারগুলো। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসার ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর, শোবার ঘর এমনকি বিছানার নিচ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শহরের দাপুনিয়া এলাকার মুন্নি বেগম বলেন, সকালে উঠে রান্না করতে যাবো, দেখি ঘরে পানি। বিছানার নিচ পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। আশপাশের সব ময়লা পানি ঘরে ঢুকছে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বৃষ্টি তিন ঘণ্টা হলেও পানি নামতে আরও অনেক সময় লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মিয়া বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, এমনকি ঘরেও পানি উঠে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি, বিশেষ করে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের ভয়ে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাসহ নোংরা পানি ঘরে ঢুকে পড়ে, এতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
টানা বৃষ্টিতে শুধু শহরের সড়কই নয়, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-সরিষাবাড়ী রেললাইনের কয়েকটি অংশও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ট্রেন চলাচল নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে অনেক মানুষ ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন। তবে রেললাইনের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী আনিস বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছি। কিন্তু এসে দেখি রেললাইনের কিছু অংশ পানির নিচে। এতে আমাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। যে-কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আতঙ্কে আছি।
গেইটপাড়া এলাকার ফল ব্যবসায়ী মুখলেস মিয়া বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে পুরো এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। রেললাইনের পাশেও অনেক পানি জমে আছে। ঈদের সময় মানুষ বেশি যাতায়াত করে, তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ভোগান্তি হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
জামালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সোহেল মিয়া বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। ড্রেন পরিষ্কারসহ যেসব স্থানে পানি জমে আছে সেগুলো দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
হৃদয় আহম্মেদ/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?