ঘরে যা করতে পারেন না মেসি

মাঠে তিনি নিখুঁত, নীরব ঘাতক; তবে আলো আর ক্যামেরার কেন্দ্রে থেকেও যিনি বরাবরই অন্তর্মুখী। প্রশ্ন থাকতে পারে ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে লিওনেল মেসি কেমন? সে উত্তর হলো তিনি একেবারেই আলাদা—নিঃসঙ্গতা পছন্দ করেন, নিয়মে বাঁধা জীবনযাপন করেন, আবার ভালোবাসা প্রকাশ করেন নীরব যত্নে। সাম্প্রতিক এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ফুটবল–আইকন নিজেই তুলে ধরেছেন তাঁর সেই ব্যক্তিগত পৃথিবীর গল্প। একটি নির্ভার আড্ডায় মেসি স্বীকার করেছেন, তিনি স্বভাবতই একা থাকতে ভালোবাসেন। তার ভাষায়, “আমি একা থাকতে উপভোগ করি। বাড়িতে তিনটা বাচ্চা দৌড়াদৌড়ি করলে অনেক সময় সেটা আমাকে ভীষণভাবে ক্লান্ত করে তোলে।” আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে যিনি নেতৃত্বের প্রতীক, ঘরে তিনি শান্ত পরিবেশেই নিজের ভারসাম্য খুঁজে নেন। নিজেকে অত্যন্ত গোছানো ও শৃঙ্খলাপরায়ণ হিসেবেও তুলে ধরেছেন মেসি। দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য পরিবর্তন হলেই তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। “আমি খুব স্ট্রাকচার্ড। দিনের পরিকল্পনা বদলে গেলে মাথা খারাপ হয়ে যায়,” বলেন তিনি। এমনকি কাপড় রং অনুযায়ী সাজানো, ম্যাচের আগের দিন সবকিছু আগেভাগে প্রস্তুত রাখা—এসব অভ্যাসও নাকি তাঁর জীবনের অংশ। এই প্রবণতা

ঘরে যা করতে পারেন না মেসি
মাঠে তিনি নিখুঁত, নীরব ঘাতক; তবে আলো আর ক্যামেরার কেন্দ্রে থেকেও যিনি বরাবরই অন্তর্মুখী। প্রশ্ন থাকতে পারে ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে লিওনেল মেসি কেমন? সে উত্তর হলো তিনি একেবারেই আলাদা—নিঃসঙ্গতা পছন্দ করেন, নিয়মে বাঁধা জীবনযাপন করেন, আবার ভালোবাসা প্রকাশ করেন নীরব যত্নে। সাম্প্রতিক এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ফুটবল–আইকন নিজেই তুলে ধরেছেন তাঁর সেই ব্যক্তিগত পৃথিবীর গল্প। একটি নির্ভার আড্ডায় মেসি স্বীকার করেছেন, তিনি স্বভাবতই একা থাকতে ভালোবাসেন। তার ভাষায়, “আমি একা থাকতে উপভোগ করি। বাড়িতে তিনটা বাচ্চা দৌড়াদৌড়ি করলে অনেক সময় সেটা আমাকে ভীষণভাবে ক্লান্ত করে তোলে।” আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে যিনি নেতৃত্বের প্রতীক, ঘরে তিনি শান্ত পরিবেশেই নিজের ভারসাম্য খুঁজে নেন। নিজেকে অত্যন্ত গোছানো ও শৃঙ্খলাপরায়ণ হিসেবেও তুলে ধরেছেন মেসি। দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য পরিবর্তন হলেই তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। “আমি খুব স্ট্রাকচার্ড। দিনের পরিকল্পনা বদলে গেলে মাথা খারাপ হয়ে যায়,” বলেন তিনি। এমনকি কাপড় রং অনুযায়ী সাজানো, ম্যাচের আগের দিন সবকিছু আগেভাগে প্রস্তুত রাখা—এসব অভ্যাসও নাকি তাঁর জীবনের অংশ। এই প্রবণতা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে তাঁর বড় ছেলে থিয়াগো। তবে ঘরে একটি বিষয়ে তাঁর ওপর রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। ফুটবল নিয়ে অতিরিক্ত ‘পাগলামি’ করা চলবে না। মেসি জানান, সারাদিন মাঠে বা অনুশীলনে বলের সঙ্গে থাকার পর বাসায় বাচ্চাদের সঙ্গে খেলায় লাগাম টেনে ধরেছেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকজ্জু। “বাসায় খুব বেশি বল খেলতে দেয় না। খুব একটা অগোছালো করা যাবে না,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি। রোমান্টিক দিক নিয়েও খোলামেলা মেসি, যদিও নিজেকে খুব একটা আবেগপ্রবণ মানুষ বলে মনে করেন না। “আমি খুব প্রকাশভঙ্গিম নই, কিন্তু খেয়াল রাখি। প্রতিদিন ছোটখাটো কিছু করার চেষ্টা করি,” বলেন তিনি। মেসির মতে, অ্যান্তোনেলা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি আবেগপ্রকাশ করেন। এমনকি এ নিয়েও তাঁদের মধ্যে তর্ক হয়েছে—কারণ মেসি তুলনামূলকভাবে ‘ঠান্ডা’। তবুও তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটাই: “যাদের আমি ভালোবাসি, তাদের হাসিখুশি দেখা।” ফুটবলের ইতিহাসে যাঁকে দেখা হয় প্রায় নিখুঁত এক চরিত্র হিসেবে, সেই মেসির এই স্বীকারোক্তি মনে করিয়ে দেয়—মহাতারকার আড়ালেও আছেন এক নিঃসঙ্গ, শৃঙ্খলাপ্রিয়, নীরবে ভালোবাসতে জানা মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow