ঘোড়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
গত বছরের নভেম্বরে গাজীপুরের হায়দ্রাবাদ এলাকায় জবাই করা ঘোড়া ও ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্ত ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সারাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুল জারি করে হাইকোর্ট ঘোড়ার মাংস এবং রোগাক্রান্ত পশুর মাংসের অবৈধ জবাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রয় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (৭ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে এদিন রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মুহাম্মদ মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে বাংলাদেশে অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের
গত বছরের নভেম্বরে গাজীপুরের হায়দ্রাবাদ এলাকায় জবাই করা ঘোড়া ও ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্ত ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সারাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রুল জারি করে হাইকোর্ট ঘোড়ার মাংস এবং রোগাক্রান্ত পশুর মাংসের অবৈধ জবাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রয় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (৭ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে এদিন রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মুহাম্মদ মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।
আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে বাংলাদেশে অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণের নির্দেশনা চেয়েছেন অভয়ারণ্য - বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন (তুলা) কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তর করে সংগঠিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যচক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া ও ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মরদেহ এবং বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়।
সাকিব মাহবুব জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাণিগুলো প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমার এবং অন্যান্য গুরুতর আঘাতে ভুগছিল। এই দূষিত মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাতকরণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকি এই মাংসকে গরুর মাংস নাম দিয়েও মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল।
কর্তৃপক্ষ এসব কার্যক্রম তাৎক্ষণিক বন্ধের নির্দেশ ও মনিটরিং ব্যবস্থার কথা জানালেও তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নেই। পরবর্তীতে একটি মোবাইল কোর্ট গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথা প্রচলিত নয় এবং এটি গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে জানান আদালত।
আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সারাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালত আরও নির্দেশ দেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে জব্দকৃত ঘোড়াগুলোর নিলাম বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তর রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এফএইচ/এএমএ
What's Your Reaction?