চকরিয়া-মাতামুহুরীতে বন্যা, পানিবন্দি ও খাবার সংকটে বাসিন্দারা

টানা ছয় দিনের রেকর্ডভাঙা প্রবল বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় দুই উপজেলার অন্তত ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।  এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার কারণে দুই উপজেলা ও একটি পৌরসভার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যা কবলিত অঞ্চলে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা (১১.৮০ মিটার) অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।  তীব্র স্রোতের কারণে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে হুহু করে বানের পানি ঢুকে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। শতাধিক গ্রাম এখন পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, চুলো জ্বলছে না ঘরে।  চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে বন্যা, পানিবন্দি ও খাবার সংকটে বাসিন্দারা

টানা ছয় দিনের রেকর্ডভাঙা প্রবল বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় দুই উপজেলার অন্তত ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার কারণে দুই উপজেলা ও একটি পৌরসভার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যা কবলিত অঞ্চলে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা (১১.৮০ মিটার) অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। 

তীব্র স্রোতের কারণে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে হুহু করে বানের পানি ঢুকে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। শতাধিক গ্রাম এখন পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, চুলো জ্বলছে না ঘরে। 

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে কোমরসমান পানি, রান্নাবান্না সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। 

চকরিয়া পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় ঘরে আটকে আছেন। শুকনো খাবার ও শিশুদের জরুরি পুষ্টির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকার নলকূপ ও পানির উৎসগুলো তলিয়ে গেছে। 

মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মকবুল আহমদ বলেন, ক্রমাগত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্নাবান্না হচ্ছে না। অসংখ্য মানুষ না খেয়ে আছে।

বিশুদ্ধ খাবার পানিরও সংকট দেখা যাচ্ছে দুই উপজেলার বন্যায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চলে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দুই উপজেলায় এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে একটি বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়ে ঘুমন্ত দুই চাচাতো ভাই-বোন মাটিচাপায় মারা যায়। তারা হলেন তৌসিফ মিয়া (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭)। 

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে ডুবে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা গ্রামের ওয়াকিম (২) নামের এক শিশু এবং মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় পুষ্প (৩) নামের অন্য এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে চকরিয়া-মহেশখালী সংযোগ সড়কসহ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।  

মাঠের পর মাঠ আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি ক্ষেত এবং শত শত মৎস্য ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় চাষি ও খামারিরা কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি জরুরি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow