চট্টগ্রামে বন্যায় সাপের কামড়ে আহত ৭৫
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে দুর্গত এলাকাগুলোয় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বন্যার পানিতে আশ্রয় নেওয়া বিষধর সাপ লোকালয়ে চলে আসায় বাড়ছে সাপে কাটার ঘটনা। এ পর্যন্ত সাপের কামড়ে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও বসতভিটার আশপাশে সাপ দেখা দেওয়ায় রাতের বেলায় চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের কাদের বলেন, বন্যার পানির কারণে ঘরবাড়ির চারপাশ তলিয়ে গেছে। পানির সঙ্গে সাপও ঘরের আশপাশে চলে আসছে। রাতে ঘুমানো থেকে শুরু করে চলাফেরা সবকিছুতেই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। সাপের ভয় আর পানিবন্দি জীবন নিয়ে খুব কষ্টে আছি। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিভারী বৃষ্টি, বন্যা, পাহাড় ও দেয়ালধসে নগর, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, রাউজান, আনোয়ারা, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছ
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে দুর্গত এলাকাগুলোয় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বন্যার পানিতে আশ্রয় নেওয়া বিষধর সাপ লোকালয়ে চলে আসায় বাড়ছে সাপে কাটার ঘটনা। এ পর্যন্ত সাপের কামড়ে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও বসতভিটার আশপাশে সাপ দেখা দেওয়ায় রাতের বেলায় চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।
বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের কাদের বলেন, বন্যার পানির কারণে ঘরবাড়ির চারপাশ তলিয়ে গেছে। পানির সঙ্গে সাপও ঘরের আশপাশে চলে আসছে। রাতে ঘুমানো থেকে শুরু করে চলাফেরা সবকিছুতেই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। সাপের ভয় আর পানিবন্দি জীবন নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিভারী বৃষ্টি, বন্যা, পাহাড় ও দেয়ালধসে নগর, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, রাউজান, আনোয়ারা, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু, চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও দুর্যোগে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৯০ জন। এর মধ্যে পাহাড়ধসে আহত হয়েছেন দুজন, দেয়ালধসে দুজন, সাপে কাটা ৭৫ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১ জন।
সাপে কাটা ৭৫ জনের মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ২০ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, চন্দনাইশে ৩ জন, লোহাগাড়ায় ২ জন, পটিয়ায় ২২ জন এবং রাউজানে ১৪ জন রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৯০ জন। এর মধ্যে ৭৫ জন সাপে কাটা রোগী। তবে এখন পর্যন্ত সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওআরএস, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিয়ে কাজ করছে।
সিভিল সার্জন বলেন, বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলার ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বাঁশখালীর ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠলেও বর্তমানে তা নেমে গেছে।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব টিম এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছে। পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ শিশুদের দ্রুত নৌকাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় সতর্ক থাকা, পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে জায়গা পরীক্ষা করা এবং সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা কোনো ধরনের কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
What's Your Reaction?