চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলা আর ভুল চিকিৎসার কারণে গ্যাংগ্রিন আক্রান্ত হয়ে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জুন মাসের শুরুতে ওই শিশুর মৃত্যু হলেও তা আলোচনায় আসে শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবজাতকের মায়ের দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের পর।  ফেসবুকে আমাতুল মাকনুন নামে ওই মা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিখেন, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার একটা পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার নিউমোনিয়া থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ লিংক রোডস্থ আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে উনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন সাজিনাজ হাসপাতালে এসে বাচ্চাটির চিকিৎসা সেবা দেন। চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফির

চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলা আর ভুল চিকিৎসার কারণে গ্যাংগ্রিন আক্রান্ত হয়ে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জুন মাসের শুরুতে ওই শিশুর মৃত্যু হলেও তা আলোচনায় আসে শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবজাতকের মায়ের দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের পর।  ফেসবুকে আমাতুল মাকনুন নামে ওই মা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিখেন, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার একটা পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার নিউমোনিয়া থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ লিংক রোডস্থ আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে উনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন সাজিনাজ হাসপাতালে এসে বাচ্চাটির চিকিৎসা সেবা দেন। চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফিরে এসে তাদের বাচ্চার হাতটি দেখালে তারা হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের কাছে এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়ে সঠিক কোনো উত্তর পাননি। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরো লিখেন, ‘বাচ্চার হাতটি দেখে বুঝে গিয়েছিলাম ক্যানোলাতে কিছু ভুল করেছে, এটা সেলুলাইড হয়ে গ্যাংগ্রিনের দিকে চলে যাচ্ছে। পরে আরো কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখে গেলে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ আশ্বাস দেন বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে না।  ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, ওই সময় হাতের কালোভাব শুরুতে কিছুটা কমলেও দুই একদিন পর আবারো তা খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে ছোট একটা অপারেশন করানো হয়। এরপর তারা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখে বাচ্চার হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে পড়েছে। এবং এ কারণে বাচ্চার পুরো শরীরে সংক্রমিত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইবনে সিনা হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওইখানে ডাক্তারদের পরামর্শ মতে বাম হাত কেটে ফেলা হয়। সেই মুহূর্তের বেদনাভরা কথা উল্লেখ করতে গিয়ে নবজাতকের মা আরো লিখেন, ‘মনকে এই বলে বুঝ দেই ওইদিন, হাত ছাড়া না হয় আমার বাচ্চা বাঁচবে’। তবে এতকিছুর পরেও সন্তানকে বাঁচানো যায়নি উল্লেখ করে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে একজন মা হিসেবে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবেন কিনা জানতে চান তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ওই স্ট্যাটাসটিতে অনেকেই কমেন্টের মাধ্যমে ক্ষোভ উগ্রে দিয়েছেন। এদিকে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‌‘পূর্ববর্তী হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় শিশুটির ডান পায়ের তালুতে কাটা দাগ ও বাম হাতের উপরের অঙ্গে উল্লেখ্যযোগ্য ফোলা বিদ্যমান ছিলো যা ভর্তির সময়ই নবজাতকের পিতাকে অবহিত করা হয়েছে।’ চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম কালবেলাকে বলেন, এই ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow