চট্টগ্রামে সংকট নেই কোরবানির পশুর, দাম আয়ত্তে থাকার আশা
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। এ সুযোগে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢোকে প্রতিবছর। এবার সেটা না হওয়ায় স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাহিদা মেটাতে ভরসা অন্য জেলার পশুতে। তবে সবমিলিয়ে সংকট না থাকায় দাম আয়ত্তে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কুষ্টিয়া, যশোর, রাজবাড়ি, পাবনা, ঈশ্বরদী, রাজশাহী নওগাঁ, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রামসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুতে ভরে ওঠে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলো। স্থানীয় খামারের পাশাপাশি বাইরের জেলার এসব গরুর ওপরই মূলত নির্ভর করে নগরীর কোরবানি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ১০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে মূলত এই বাইরের গরুরই আধিপত্য থাকে। এসব হাটে ঈদ মৌসুম ঘিরে শুধু খামারি নয়, ফড়িয়া ও বড় পাইকাররাও সক্রিয় থাকেন। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে সরবরাহ করেন। ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে। খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু না আসায় স
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। এ সুযোগে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢোকে প্রতিবছর। এবার সেটা না হওয়ায় স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাহিদা মেটাতে ভরসা অন্য জেলার পশুতে। তবে সবমিলিয়ে সংকট না থাকায় দাম আয়ত্তে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়া, যশোর, রাজবাড়ি, পাবনা, ঈশ্বরদী, রাজশাহী নওগাঁ, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রামসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুতে ভরে ওঠে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলো। স্থানীয় খামারের পাশাপাশি বাইরের জেলার এসব গরুর ওপরই মূলত নির্ভর করে নগরীর কোরবানি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ১০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে মূলত এই বাইরের গরুরই আধিপত্য থাকে। এসব হাটে ঈদ মৌসুম ঘিরে শুধু খামারি নয়, ফড়িয়া ও বড় পাইকাররাও সক্রিয় থাকেন। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে সরবরাহ করেন।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে। খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু না আসায় স্থানীয় খামারিরাও স্বস্তিতে আছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ক্রেতাদের আগ্রহ ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সংসার খরচের চাপ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কম দামের পশুর চাহিদা বাড়ছে।
চাহিদা মেটাতে অন্য জেলা থেকে পশু ঢোকে চট্টগ্রামের হাটগুলোতে/ছবি: জাগো নিউজ
চট্টগ্রামের সাগরিকা, ভাটিয়ারী, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও রাউজানের বিভিন্ন খামারি বলছেন, কোরবানির জন্য তারা প্রায় এক বছর ধরে গরু প্রস্তুত করেছেন। ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে উল্লেখযোগ্য হারে প্রবেশ না করায় দেশীয় খামারিরা এবার কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।
ঘাটতি পূরণ করে বাইরের জেলা
চট্টগ্রামের খামারগুলোতে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হলেও তা মোট চাহিদার তুলনায় সীমিত। ফলে বাজার কার্যত নির্ভর করে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ খামারগুলোর ওপর।
চট্টগ্রামের পশু ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে যত গরুর চাহিদা থাকে, তার বড় অংশই বাইরে থেকে আসে। স্থানীয় খামার আছে। কিন্তু তা মোট চাহিদার জন্য যথেষ্ট নয়।’
ব্যবসায়ীদের মতে, এই আন্তঃজেলা সরবরাহ চেইনের কারণে প্রতি বছরই চট্টগ্রামের বাজারে গরুর সংকট তৈরি হয় না। বরং ঈদের আগে দেশজুড়ে হাট থেকে পশু সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে প্রবেশ করায় সরবরাহ ধারাবাহিক থাকে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে ঘাটতির কথা
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টির ঘাটতি রয়েছে। তবে উপজেলার গ্রামীণ অঞ্চলে পশু উদ্বৃত্ত থাকলেও নগরকেন্দ্রিক কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট প্রাপ্যতা রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১১৩টি এবং ছাগল, ভেড়া ও অন্য পশু ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮টি। বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু। ফলে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০টি।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তালিকায় দেখা যায়, জেলার ১৮টি উপজেলার মধ্যে ১৫টিতে উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে সন্দ্বীপ উপজেলায়। সেখানে চাহিদার তুলনায় ১১ হাজার ৬০৪টি পশু বেশি।
এরপর রয়েছে ফটিকছড়ি (৭ হাজার ৮১৮), লোহাগাড়া (৬ হাজার ৯৭৬), বোয়ালখালী (৬ হাজার ৯৭২) ও মিরসরাই (৬ হাজার ৫১০)।
নগর এলাকার তিনটি থানা- পাঁচলাইশ, কোতোয়ালি ও ডবলমুরিংয়ে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ডবলমুরিংয়ে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ৪৭ হাজার ২০টি পশু। কোতোয়ালিতে ঘাটতি ৩১ হাজার ১৫৮ এবং পাঁচলাইশে ৩০ হাজার ১৫২টি।
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে কোরবানির হাটে নজর কাড়ছে ‘জোড়া কিং’
চাহিদার চেয়ে ৪৫ হাজার পশু বেশি, হাটে ক্রেতা খরা
রাজধানীর ১৯ হাটের ইজারা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ দর দিয়াবাড়ির
বাগেরহাটে কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে মামা-ভাগ্নে
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘নগর এলাকায় পশু পালনের সুযোগ কম থাকায় এসব অঞ্চলে কোরবানির পশুর জন্য মূলত গ্রামীণ উপজেলা ও বাইরের পার্বত্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে সামগ্রিকভাবে জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সবচেয়ে বেশি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। সেখানে মোট প্রাপ্যতা ৬৯ হাজার ৪৭৮টি। এরপর রয়েছে সন্দ্বীপে ৬২ হাজার ৩১০, বাঁশখালীতে ৬০ হাজার ৩৮৯ এবং পটিয়ায় ৫৯ হাজার ৭৩৫টি পশু।
স্থানীয় খামার প্রধান উৎস
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা ছোট-বড় খামার এখন কোরবানির পশুর অন্যতম প্রধান উৎস।
চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেনের কোয়াইশের খামারি নুরুল আলম সওদাগর বলেন, ‘বড় গরু পালতে খরচ বেশি। কিন্তু ক্রেতারা এখন ছোট ও মাঝারি গরুর খোঁজ করছেন। তাই সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি।’
চট্টগ্রামের হাটে কোরবানির পশু/জাগো নিউজ
রাউজানের এক খামারি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘আগে বাজারে ভারতীয় গরুর প্রভাব ছিল বেশি। এখন দেশীয় খামারিরা অনেক এগিয়েছেন। আমরা সারা বছর গরু লালন-পালন করি। এবার বিক্রির আশা ভালো।’
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সক্রিয়
ঈদ কেন্দ্র করে শুধু স্থায়ী ব্যবসায়ী নয়, মৌসুমি অনেক ব্যবসায়ীও এ খাতে যুক্ত হন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু সংগ্রহ করে তারা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকা, গ্রামীণ হাট ও অস্থায়ী বাজারে বিক্রি করেন।
অনেকে আবার সরাসরি খামার থেকে গরু কিনে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন। ফলে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হন, অন্যদিকে চট্টগ্রামের ক্রেতারাও তুলনামূলক সহজে পশু পান।
মোবারক নামে নগরীর অ্যাক্সেস রোডের একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ঈদ এলেই কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজবাড়ীর হাটে যাই। সেখান থেকে গরু এনে চট্টগ্রামে বিক্রি করি। প্রতি বছরই এই চেইনটা থাকে।’
চট্টগ্রামে হাট ও সরবরাহ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিবছর ঈদুল আজহার আগে ১০টি নির্ধারিত হাট পরিচালনার অনুমতি দেয়। হাটগুলোতে গরু আসে মূলত তিনটি উৎস থেকে। স্থানীয় খামার, দেশের বিভিন্ন জেলার বড় খামার, পাইকার ও ফড়িয়াদের মাধ্যমে আন্তঃজেলা সরবরাহের মাধ্যমে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরের স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে সাগরিকা গরুর হাটের। ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা পেয়েছেন মিরা মেরিনের স্বত্বাধিকারী মো. ফজলে আলীম চৌধুরী।
ইজারাসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে বিবিরহাট ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. ইসমাইল। পোস্তারপাড় ছাগলের হাট ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।
অস্থায়ী হাটের মধ্যে কর্ণফুলী পশুর হাট (নুর নগর হাউজিং এস্টেট) ২ কোটি ১২ লাখ টাকায় ইজারা পেয়েছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগর। এছাড়া ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠের হাটটি ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. সালমান খান।
নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য নির্ধারিত মূল্যও ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠের হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হালিশহর গলিচিপা পাড়া বারুণিঘাটা মাঠের মূল্য ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩৭ নম্বর মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোড়ের পাশের হাট।
৪০ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডসংলগ্ন টিএসপি মাঠের জন্য নির্ধারিত মূল্য ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পতেঙ্গা সি-বিচসংলগ্ন টানেলের উত্তর পাশের বালুর মাঠের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্টেট অফিসার অভিষেক দাশ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদ কেন্দ্র করে নগরে পশুর হাটগুলোতে এবারও ব্যাপক বেচাকেনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ছোট গরুর দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
নগরের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে এবার বাজেট কমিয়ে কোরবানির পরিকল্পনা করছেন।
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘আগে কয়েকজন মিলে বড় গরু দিতাম। এবার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই ছোট গরু নেওয়ার চিন্তা করছি।’
চট্টগ্রামের হাটে কোরবানির পশু/জাগো নিউজ
একই কথা বলেন আগ্রাবাদের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজারের চাপ আছে। তাই এবার সাধ্যের মধ্যে কোরবানি দিতে চাই।’
সাগরিকা পশুর হাটের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ এখন হিসাব করে কোরবানি দিচ্ছে। বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তাই দামও খুব বেশি বাড়বে না বলে মনে হচ্ছে। বড় গরুর ক্রেতা কম। সবাই ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে গরু খুঁজছেন। তাই ব্যবসায়ীরাও সেই অনুযায়ী পশু আনছেন।’
পশু ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামার পর্যায়ে খাবার, ওষুধ ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও বাজারে অতিরিক্ত দাম হাঁকার সুযোগ কম। কারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আগের মতো নেই।
প্রশাসনের নজরদারি
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খামারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হাটগুলোতেও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্টেট অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার পশুর সরবরাহ ভালো। কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজাকরণ রোধে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। আশা করছি, ক্রেতারা সহনীয় দামে পশু কিনতে পারবেন।
অনলাইনেও বাড়ছে বিক্রি
গত কয়েক বছরের মতো এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু বিক্রির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক খামারি ফেসবুক পেজ ও ভিডিওর মাধ্যমে আগেভাগেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
খামারিরা বলছেন, অনলাইনে পশু দেখিয়ে বিক্রি করলে পরিবহন ও হাটের ঝুঁকি কিছুটা কমে। আবার ক্রেতারাও আগে থেকেই দরদাম সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর বাজারে বড় ধরনের সংকট হবে না। বরং ভারতীয় গরু না ঢোকা ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এমআরএএইচ/এএসএ/এমএফএ
What's Your Reaction?