চট্টগ্রামে ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার, উত্তর আগ্রাবাদ, কমার্স কলেজ রোড, হালিশহর, ইপিজেড, বন্দর, পাঠানটুলি, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমেছে। অনেক স্থানে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। নগরীর কাপাসগোলা এলাকার বাসিন্দা শহীদুল হক বলেন, ভার

চট্টগ্রামে ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার, উত্তর আগ্রাবাদ, কমার্স কলেজ রোড, হালিশহর, ইপিজেড, বন্দর, পাঠানটুলি, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমেছে। অনেক স্থানে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

নগরীর কাপাসগোলা এলাকার বাসিন্দা শহীদুল হক বলেন, ভারী বৃষ্টি হলেই নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফরহান বলেন, সকালে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নগরজুড়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। কয়েকটি স্থানে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বৃষ্টি কমে এলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

তিনি অভিযোগ করেন, পতেঙ্গা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধা দিচ্ছেন। এ কারণে ওই এলাকায় জমে থাকা পানি সরতে কিছুটা সময় লাগছে।

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় আকবর শাহ থানার ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলী ঘোনা, মতিরঝর্ণা টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিলসংলগ্ন পাহাড়, ঢেবারপাড়, আমবাগান, দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার সেকান্দর কলোনি, ঠান্ডাছড়ি ও সন্দ্বীপ কলোনিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রশাসন আটটি আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রেখেছে।

চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, রোববার রাত থেকেই মাঠপর্যায়ে মাইকিং করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামেও উদ্বেগ বেড়েছে।

এমআরএএইচ/জেএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow