চাঁদপুরে বৈশাখে পান্তা-ইলিশ নয়, মেনুতে ভিন্ন আয়োজন

বাঙালি ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে নববর্ষের প্রথম দিন পান্তা ইলিশ খাওয়া এক ধরনের পুরোনো রীতির প্রচলন। তবে ইলিশের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে গেলো কয়েক বছরে চাঁদপুরে পান্তা ইলিশকে ভিন্নভাবে টিকিয়ে রাখা হয়। এরমধ্যে নামে পান্তা ইলিশ বলা হলেও মূলত পান্তার সাথে ভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ও ভর্তা দেওয়া হয়। কেউ আবার মাটির হাঁড়িতে বা কলা পাতায় শখের বশত এসব খাবার খায়। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে পান্তা ইলিশ নামটি টিকে থাকা নিয়ে চাঁদপুরের বিশিষ্টজনেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণে জেলার সব মহল সচেতন ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে কারণে পয়লা বৈশাখে পান্তার সাথে ইলিশ খাওয়ার প্রচলন বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় প্রেসক্লাব থেকে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন কার্যক্রম শুরু হতো। এখন পান্তার সাথে মেনুতে অন্য মাছ রাখা হয়। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীসহ আশপাশের জেলার সব ইলিশ কেনা বেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু ইল

চাঁদপুরে বৈশাখে পান্তা-ইলিশ নয়, মেনুতে ভিন্ন আয়োজন
বাঙালি ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে নববর্ষের প্রথম দিন পান্তা ইলিশ খাওয়া এক ধরনের পুরোনো রীতির প্রচলন। তবে ইলিশের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে গেলো কয়েক বছরে চাঁদপুরে পান্তা ইলিশকে ভিন্নভাবে টিকিয়ে রাখা হয়। এরমধ্যে নামে পান্তা ইলিশ বলা হলেও মূলত পান্তার সাথে ভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ও ভর্তা দেওয়া হয়। কেউ আবার মাটির হাঁড়িতে বা কলা পাতায় শখের বশত এসব খাবার খায়। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে পান্তা ইলিশ নামটি টিকে থাকা নিয়ে চাঁদপুরের বিশিষ্টজনেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণে জেলার সব মহল সচেতন ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে কারণে পয়লা বৈশাখে পান্তার সাথে ইলিশ খাওয়ার প্রচলন বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় প্রেসক্লাব থেকে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন কার্যক্রম শুরু হতো। এখন পান্তার সাথে মেনুতে অন্য মাছ রাখা হয়। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীসহ আশপাশের জেলার সব ইলিশ কেনা বেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু ইলিশ পরিবহন, মজুদসহ সব দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই পান্তা ইলিশকে ঠেকাতে গিয়ে অতি উৎসাহী হয়ে কেউ বেআইনি কোনো কার্যক্রম করলে সে বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি। এখন ইলিশ বন্ধ থাকায় পান্তার সাথে খেতে ইলিশ মাছের বদলে রুই, তেলাপিয়া, পুঁটিসহ অন্যান্য মাছ মানুষ কিনে খাচ্ছে। চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস দিন ও রাতে টাস্কফোর্সের অভিযান নদীসহ সর্বত্র অব্যাহত রয়েছে। ইলিশ যাতে প্রকাশ্যে বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য জলে-স্থলে সব জায়গায় অভিযান চলমান। জড়িত পেলেই অসাধু ব্যক্তিদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তাই পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ নামে থাকলেও চাঁদপুরে কার্যক্রমে মানুষ ভিন্ন পন্থাই অবলম্বন করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow