চাকরির প্রথমদিনই অফিসের দেওয়া ল্যাপটপ নিয়ে উধাও কর্মী!
চাকরির প্রথমদিন কর্মীরা সাধারণত নতুন পরিবেশ ও কাজ নিয়ে কিছুটা রোমাঞ্চ এবং উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। কিন্তু এমন এক কর্মীর খোঁজ মিলেছে, যিনি চাকরির প্রথমদিনই অফিসের দেওয়া দামি ল্যাপটপ নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন! শুধু উধাও হওয়াই নয়, নিজের সব ধরনের ডিজিটাল অস্তিত্বও মুছে ফেলেছেন তিনি। রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট ‘উবার’-এ ঘটেছে এই দুর্ধর্ষ ও অদ্ভুত ঘটনা। সম্প্রতি উবারের হায়দরাবাদভিত্তিক প্রিন্সিপাল রিক্রুটার রঘু তেননেতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি শেয়ার করেছেন, যা এরই মধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। ল্যাপটপ পেয়েই ‘ভ্যানিশ’ রঘু তেননেতি জানান, ওই প্রার্থী উবারের কঠিন সব ইন্টারভিউ পর্ব অত্যন্ত সফলভাবে পার করেছিলেন। এরপর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দিন কাজের জন্য একটি দামি ‘ম্যাকবুক’ ল্যাপটপ পাঠানো হয়। কিন্তু যোগদানের দিন থেকেই ওই কর্মীর আর কোনো খোঁজ নেই। আরও পড়ুন>>আইটির চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালান তরুণী, মাসে আয় ৬০ হাজাররাখাল নিয়োগে আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাওউন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে যৌনকর্মীদের ধর্মঘট রঘু তার পোস্টে লেখেন, ‘যোগদানের দিন প্রার্থীর খোঁজ না পাওয়া আজক
চাকরির প্রথমদিন কর্মীরা সাধারণত নতুন পরিবেশ ও কাজ নিয়ে কিছুটা রোমাঞ্চ এবং উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। কিন্তু এমন এক কর্মীর খোঁজ মিলেছে, যিনি চাকরির প্রথমদিনই অফিসের দেওয়া দামি ল্যাপটপ নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন! শুধু উধাও হওয়াই নয়, নিজের সব ধরনের ডিজিটাল অস্তিত্বও মুছে ফেলেছেন তিনি। রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট ‘উবার’-এ ঘটেছে এই দুর্ধর্ষ ও অদ্ভুত ঘটনা।
সম্প্রতি উবারের হায়দরাবাদভিত্তিক প্রিন্সিপাল রিক্রুটার রঘু তেননেতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি শেয়ার করেছেন, যা এরই মধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
ল্যাপটপ পেয়েই ‘ভ্যানিশ’
রঘু তেননেতি জানান, ওই প্রার্থী উবারের কঠিন সব ইন্টারভিউ পর্ব অত্যন্ত সফলভাবে পার করেছিলেন। এরপর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দিন কাজের জন্য একটি দামি ‘ম্যাকবুক’ ল্যাপটপ পাঠানো হয়। কিন্তু যোগদানের দিন থেকেই ওই কর্মীর আর কোনো খোঁজ নেই।
আরও পড়ুন>>
আইটির চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালান তরুণী, মাসে আয় ৬০ হাজার
রাখাল নিয়োগে আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও
উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে যৌনকর্মীদের ধর্মঘট
রঘু তার পোস্টে লেখেন, ‘যোগদানের দিন প্রার্থীর খোঁজ না পাওয়া আজকের দিনে নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই ভদ্রলোক শুধু খোঁজহীন হননি, তিনি যেন পৃথিবী থেকেই বিলীন হয়ে গেছেন!’
নির্ধারিত দিনে ওই কর্মী অফিসে হাজির না হওয়ায় উবারের এইচআর টিম তার নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে শুনতে হয়, ‘এই নম্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই’। রঘু বলেন, ‘নম্বরটি বন্ধ বা নেটওয়ার্কের বাইরে ছিল না, সরাসরি বলা হয়েছে নম্বরটির অস্তিত্বই নেই। সে আমাদের ব্লক করেনি, বরং টেলিকম গ্রিড থেকেই নিজেকে মুছে ফেলেছে।’
এখানেই শেষ নয়, ওই কর্মীর লিংকডইন প্রোফাইলটিও ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
ম্যাকবুক ট্র্যাকিংয়ে মিলল ভূতুড়ে তথ্য
উবার কর্তৃপক্ষ যখন ল্যাপটপটি যে ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল সেটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করে, তখন তারা আরও বড় ধাক্কা খায়। দেখা যায়, ল্যাপটপটি যেখানে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছিল, সেটি আসলে একটি পরিত্যক্ত ভবনের পেছনের খালি জায়গা। অর্থাৎ, নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।
এরপর উবারের আইটি টিম দূরনিয়ন্ত্রিত উপায়ে ল্যাপটপটির অবস্থান জানার চেষ্টা করে। আইটি টিমের রিপোর্টে জানা যায়, ল্যাপটপটি ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করে ‘এনক্রিপ্টেড প্রক্সি’র মাধ্যমে এমন কিছু কো-অর্ডিনেট বা স্থানাঙ্ক দেখাচ্ছে, যা এই পৃথিবীতেই নেই!
মিশন ইম্পসিবলকেও হার মানাল!
এই চুরির ঘটনাকে বিখ্যাত হলিউড সিনেমা ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর চরিত্র ইথান হান্টের (টম ক্রুজ অভিনীত) সঙ্গে তুলনা করেছেন রঘু। তিনি লিখেছেন, ‘এই ব্যক্তি শুধু প্রথমদিন অনুপস্থিত থাকেননি, তিনি নিজের পুরো পরিচয়টাই জাল করেছেন এবং একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টও না রেখে হাওয়া হয়ে গেছেন। এটা সাধারণ ফাঁকি দেওয়া নয়, এটা একটা নিখুঁত ডাকাতি। ইথান হান্ট, আপনার এই দক্ষতাকে সম্মান জানাই! তবে ভাই, আমরা শুধু আমাদের ল্যাপটপটা ফেরত চাই।’
রসাত্মক সুরে রঘু আরও যোগ করেন, এখন থেকে তারা নিয়োগের পূর্ববর্তী চেকলিস্টে একটি নতুন শর্ত রাখছেন—‘প্রার্থী শারীরিকভাবে বাস্তবে টিকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা’।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির রোল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ওই ব্যক্তির ইন্টারভিউ পাস করার ধৈর্যের প্রশংসা করছেন। আবার অনেকেই অবাক হচ্ছেন লোকটা এত কষ্ট করেছে শুধু একটা ল্যাপটপ চুরির জন্য!
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না! একজন মানুষ লিটকোডের কঠিন সব কোডিং সমস্যা সমাধান করল, উবারের ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারভিউ, বিহেভিওরাল রাউন্ড, সিস্টেম ডিজাইন আর এইচআর পর্ব পার করল... শুধু একটা ম্যাকবুক চুরি করার জন্য? চুরি করার জন্য মানুষের ধৈর্যের মাত্রা কোন পর্যায়ে যেতে পারে!’
অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘হতে পারে এটি একটি বড় চক্র। তারা হয়তো একই সময়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে ভুয়া পরিচয়ে পরীক্ষা দিয়ে এভাবে ল্যাপটপ হাতিয়ে নিচ্ছে।’
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/
What's Your Reaction?