চার দশকের ব্যবসায়িক পথচলায় শওকত আলী চৌধুরী

চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক অঙ্গনে চার দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয় উদ্যোক্তা মো. শওকত আলী চৌধুরী। ১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া তার ব্যবসায়িক যাত্রা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে শিল্প, ব্যাংকিং, শিপ রিসাইক্লিং, রিয়েল এস্টেট, লজিস্টিকস, চা শিল্প ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে একাধিক খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনা সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার চার দশকের বেশি সময়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বিনিয়োগ, কর প্রদান, শিল্পখাতে সম্পৃক্ততা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘ পথচলা।  ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, কোনো উদ্যোক্তার দীর্ঘ কর্মজীবন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু কোনো অভিযোগ বা আলোচনাকে নয়, বরং তাঁর সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নথিপত্র, বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে ভূমিকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। মো. শওকত আলী চৌধুরীর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। ওই সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে উঠছিল। শিল্পায়ন, আমদানি-রপ্তানি এবং চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে

চার দশকের ব্যবসায়িক পথচলায় শওকত আলী চৌধুরী
চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক অঙ্গনে চার দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয় উদ্যোক্তা মো. শওকত আলী চৌধুরী। ১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া তার ব্যবসায়িক যাত্রা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে শিল্প, ব্যাংকিং, শিপ রিসাইক্লিং, রিয়েল এস্টেট, লজিস্টিকস, চা শিল্প ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে একাধিক খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনা সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার চার দশকের বেশি সময়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বিনিয়োগ, কর প্রদান, শিল্পখাতে সম্পৃক্ততা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘ পথচলা।  ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, কোনো উদ্যোক্তার দীর্ঘ কর্মজীবন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু কোনো অভিযোগ বা আলোচনাকে নয়, বরং তাঁর সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নথিপত্র, বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে ভূমিকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। মো. শওকত আলী চৌধুরীর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। ওই সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে উঠছিল। শিল্পায়ন, আমদানি-রপ্তানি এবং চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে চট্টগ্রাম তখন ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছিল। জানা গেছে, পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে আশির দশকে শুরু হওয়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তৃত করেন শওকত আলী চৌধুরী। একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ না থেকে সময়ের সঙ্গে শিল্প, আর্থিক ও সেবা খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। বেসরকারি শিল্পের বিকাশ, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সম্প্রসারণ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি তৈরি করে। এ সময় শওকত আলী চৌধুরীর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও নতুন পরিসরে বিস্তৃত হয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শওকত আলী চৌধুরী ব্যাংকটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হন। বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের বিকাশের সময়ে করপোরেট ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও শিল্পখাত সম্পর্কে ধারণার কারণে শওকত আলী চৌধুরীর অভিজ্ঞতা ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ইস্টার্ন ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা, ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শওকত আলী চৌধুরীর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে শিল্প ও বাণিজ্যের বিভিন্ন খাতে। এর মধ্যে শিপ রিসাইক্লিং, লজিস্টিকস, রিয়েল এস্টেট, চা শিল্প ও বীমা খাত উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠা শিপ রিসাইক্লিং শিল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। পুরোনো জাহাজ পুনর্ব্যবহার, ইস্পাতসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সঙ্গে এই খাত জড়িত। ব্যবসায়িক সূত্রে জানা গেছে, শওকত আলী চৌধুরীর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি অংশ শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই খাতের সঙ্গে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, পরিবহন, সরবরাহ, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও বিভিন্ন সহযোগী ব্যবসার মানুষও যুক্ত রয়েছেন। ফলে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রভাব বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। রিয়েল এস্টেট খাতেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফিনলে প্রপার্টিজের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক চট্টগ্রামের আবাসন খাতে আলোচিত। দেশের দ্রুত নগরায়ণ, আবাসনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং নির্মাণশিল্পের বিকাশের কারণে এই খাত অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও নাজিম উদ্দীন বলেন, শওকত আলী চৌধুরী চার দশকের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক অঙ্গনে পরিচিত একজন উদ্যোক্তা। ব্যাংকিং, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তার বিনিয়োগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ী মহলে শওকত আলী চৌধুরীর পরিচয়ের আরেকটি দিক হলো কর প্রদান। বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০১৩-১৪ করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই সময়ে দায়-দেনা বাদ দিয়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭৫ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল। তাকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ বলছে, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বিনিয়োগ ও কর নথির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচিত সভাপতি আমিরুল হক কালবেলাকে বলেন, আমাদের জানা মতে শওকত আলী চৌধুরী দেশের একজন সুনামধন্য ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ব্যবসায়িক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন। কোনো অভিযোগ উঠলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, একটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, এর সঙ্গে হাজারো শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার জড়িত থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ওপর পড়ে। যুবক রিফাত বলেন, আমরা তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। বর্তমানে একজন যুবকের জন্য একটি চাকরি পাওয়া কঠিন। সেখানে তার প্রতিষ্ঠানে হাজারো মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। কর্মসংস্থান তৈরি করা উদ্যোক্তাদের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও মো. শওকত আলী চৌধুরীর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের পাশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের বিয়ে, চিকিৎসা সহায়তা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় তিনি সহযোগিতা করে থাকেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও তার সহযোগিতার কথা জানা যায়। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা করে আসছেন তিনি। সহযোগিতার জন্য তার কাছে আসা মানুষকে সাধারণত নিরাশ করেন না—এমনটাই জানান স্থানীয়রা। তবে এসব সহায়তা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে প্রকাশ করার চেয়ে নীরবে মানুষের পাশে থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন বলে পরিচিতজনরা জানান। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মজিব বলেন, আমরা মো. শওকত আলী চৌধুরীকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে জানি। বিভিন্ন সময় মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতা করতে দেখেছি। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার জন্য গেলে তিনি পাশে দাঁড়ান। তবে এসব সহযোগিতা তিনি প্রচারের জন্য করেন না।' ১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া ব্যবসায়িক যাত্রা ১৯৯৩ সালে ব্যাংকিং খাতে সম্পৃক্ততা, পরবর্তী সময়ে শিল্প ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। চার দশকের বেশি সময়ের এই পথচলায় শিল্প, ব্যাংকিং ও বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ততা চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow