চালক বাবলুর বয়ানে গভীর জলে রাহুলের শেষ লড়াই

ওড়িশার তালসারিতে রোববারের বিকেলটা এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার গল্প নয় বরং এটি একের পর এক প্রশ্নে জড়ানো এক জটিল সময়রেখা। আর সেই সময়রেখার সবচেয়ে কাছের সাক্ষ্য এবার উঠে এল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িচালক বাবলুর মুখে। বাবলু শুধু ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন বরং এই অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীও ছিলেন। বাবলু নিজের বয়ানে সরাসরি জানান ঘটনাটা ঘটে একেবারে শুটিংয়ের শেষ মুহূর্তে যখন পুরো ইউনিট প্রায় প্যাকআপের মুখে। ঠিক সেই সময়েই রাহুল জলে নামেন। তবে তিনি শুটিংয়ের প্রয়োজনে নেমেছিলেন নাকি ব্যক্তিগতভাবে তা নিয়ে তিনি নিজেও এখনো নিশ্চিত নন। বাবলু বলেন শুটিং একেবারে শেষের পথে ছিল এবং এমন সময়েই এই ঘটনা ঘটে। রাহুল জলে নামার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে জানান বাবলু। চালকের কথায় জলের গভীরতা বেশ ভালোই ছিল এবং তারা যতটা ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তিনি জানান তারা কেউই বুঝতে পারেননি কারণ তখন জোয়ার এসেছিল এবং ভালো স্রোতও ছিল। অর্থাৎ সমুদ্র সেই সময়ে ওপর থেকে যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল জলের গভীরতা বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এরপরের মুহূর্তটি আরও ভয়ংকর ছিল। বাবলু বলেন ইউনিটের টেকনিশি

চালক বাবলুর বয়ানে গভীর জলে রাহুলের শেষ লড়াই
ওড়িশার তালসারিতে রোববারের বিকেলটা এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার গল্প নয় বরং এটি একের পর এক প্রশ্নে জড়ানো এক জটিল সময়রেখা। আর সেই সময়রেখার সবচেয়ে কাছের সাক্ষ্য এবার উঠে এল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িচালক বাবলুর মুখে। বাবলু শুধু ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন বরং এই অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীও ছিলেন। বাবলু নিজের বয়ানে সরাসরি জানান ঘটনাটা ঘটে একেবারে শুটিংয়ের শেষ মুহূর্তে যখন পুরো ইউনিট প্রায় প্যাকআপের মুখে। ঠিক সেই সময়েই রাহুল জলে নামেন। তবে তিনি শুটিংয়ের প্রয়োজনে নেমেছিলেন নাকি ব্যক্তিগতভাবে তা নিয়ে তিনি নিজেও এখনো নিশ্চিত নন। বাবলু বলেন শুটিং একেবারে শেষের পথে ছিল এবং এমন সময়েই এই ঘটনা ঘটে। রাহুল জলে নামার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে জানান বাবলু। চালকের কথায় জলের গভীরতা বেশ ভালোই ছিল এবং তারা যতটা ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তিনি জানান তারা কেউই বুঝতে পারেননি কারণ তখন জোয়ার এসেছিল এবং ভালো স্রোতও ছিল। অর্থাৎ সমুদ্র সেই সময়ে ওপর থেকে যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল জলের গভীরতা বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এরপরের মুহূর্তটি আরও ভয়ংকর ছিল। বাবলু বলেন ইউনিটের টেকনিশিয়ান ছেলেদের মধ্যে ৬ থেকে ৭ জন নিজেদের জীবন বাজি রেখে রাহুলকে তুলতে জলে ঝাঁপ দিয়েছিল কিন্তু তারা কিছু করতে পারেনি। সহঅভিনেত্রীও রাহুলের সঙ্গে ছিলেন এবং তিনি কোনো রকমে পাড়ে ফিরে আসেন। বাবলু জানান রাহুলকে তুলতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায় এবং ততক্ষণে তিনি অনেকটাই জল খেয়ে ফেলেছিলেন। সাঁতার জানা সত্ত্বেও হয়তো সেই সময়ে নার্ভাস হয়ে যাওয়ার কারণে সাঁতার কোনো কাজে লাগেনি বলে মনে করেন তিনি। জল থেকে তোলার পর প্রথমে মনে হয়েছিল এখনো হয়তো আশা আছে। বাবলু জানান চাপ দিয়ে শরীর থেকে জল বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল এবং কিছুটা জল বেরিয়েও আসে। এমনকি তার শ্বাসপ্রশ্বাসও তখন চলছিল বলে দাবি করেন তিনি। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চালক নিজেও পেছন পেছন যান কিন্তু হাসপাতালেই সব শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বাবলু আক্ষেপ করে বলেন ‘টলিউড’-এর কোনো শুটিংয়ে তো ডাক্তার থাকে না এবং ডাক্তার নিয়ে শুটিং হয় না। তার বয়ানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। তিনি সরাসরি জানান ঘটনাস্থলে কোনো লাইফগার্ড নুলিয়া বা পুলিশ ছিল না এবং ইউনিটের তরফ থেকেও কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। বাবলু তীব্র আক্ষেপ নিয়ে বলেন আমি তো রাহুলের কাছের লোক ছিলাম কিন্তু কাছে থেকেও কিছু করতে পারলাম না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow