চিকিৎসক বলেছেন মৃত, বাড়িতে এনে চলছে ঝাড়ফুঁক

বরিশালের বাবুগঞ্জে সাপে কাটা এক যুবকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠালেও বাঁচানোর জন্য চলছে ঝাড়ফুঁকের চেষ্টা। দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত এইচএম সায়েম (২৭) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছালেও ধীরে ধীরে তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করেন। পরপর দুইবার এন্টিভেনম দেওয়া হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরদিন ১৭ এপ্রিল শুক্রবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। ত

চিকিৎসক বলেছেন মৃত, বাড়িতে এনে চলছে ঝাড়ফুঁক

বরিশালের বাবুগঞ্জে সাপে কাটা এক যুবকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠালেও বাঁচানোর জন্য চলছে ঝাড়ফুঁকের চেষ্টা। দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত এইচএম সায়েম (২৭) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছালেও ধীরে ধীরে তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করেন। পরপর দুইবার এন্টিভেনম দেওয়া হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরদিন ১৭ এপ্রিল শুক্রবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

তবে স্বজনরা তাকে দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় উৎসুক জনতা মৃতের বাড়িতে ভিড় করছেন।

মৃতের স্বজন মো. জুয়েল হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেছেন। তবে আমরা আশা ছাড়িনি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে, এই বিশ্বাস থেকেই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এন্টিভেনম প্রয়োগই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণের পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow