চীনকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পর এর ব্যবস্থাপনা থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার আয় করার পরিকল্পনা করছে ইরান। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।  প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ধারণা, প্রণালিটির নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত সেবা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশগুলো বছরে ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি আয় করতে পারবে। এ লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের দারদানেলস প্রণালিতে কর ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং চীনের কাছেও এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান চায়, আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও প্রণালিটির নিরাপত্তা ও পরিচালনার দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য আয় ভাগাভাগিতে অংশ নিক। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। সে সময় প্রণালি অতিক্রমের আগে ইরানের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়

চীনকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পর এর ব্যবস্থাপনা থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার আয় করার পরিকল্পনা করছে ইরান। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ধারণা, প্রণালিটির নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত সেবা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশগুলো বছরে ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি আয় করতে পারবে।

এ লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের দারদানেলস প্রণালিতে কর ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং চীনের কাছেও এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান চায়, আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও প্রণালিটির নিরাপত্তা ও পরিচালনার দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য আয় ভাগাভাগিতে অংশ নিক।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। সে সময় প্রণালি অতিক্রমের আগে ইরানের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। 

পরবর্তীতে জুনের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুসরণ করে প্রণালিটির প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ইরান ও ওমান আলোচনা করবে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলো সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের টোল আরোপ করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে মে মাসেও ইরানের সম্ভাব্য টোল আরোপের পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করে বলেছিলেন, আমরা কোনো টোল চাই না।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানও শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যমের উসকানিমূলক প্রতিবেদনের বিপরীতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো টোল, বীমা ব্যয় বা অন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow