চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে ঘরেই বানান হাইড্রেটিং মাস্ক

চোখের চারপাশের ত্বক মুখের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই ঘুমের ঘাটতি, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা সাইনাসের সমস্যার কারণে খুব সহজেই চোখের নিচে ফোলা ভাব বা ‘পাফি আইজ’ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের আগে এমন সমস্যা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মেকআপ দিয়ে চোখের নিচের ফোলাভাব সবসময় পুরোপুরি ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের চারপাশের ত্বককে ঠান্ডা, আর্দ্র ও আরামদায়ক রাখতে পারলে ফোলাভাব অনেকটাই কমে আসে। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই তৈরি করা যায় এমন কিছু হাইড্রেটিং মাস্ক, যা চোখকে সতেজ দেখাতে সাহায্য করতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঘরোয়া মাস্ক চোখের চারপাশে সতেজ অনুভূতি এনে দিতে পারে শসা ও পুদিনা পাতার হাইড্রেটিং মাস্ক শসা দীর্ঘদিন ধরেই চোখের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে পুদিনা পাতায় থাকা প্রাকৃতিক শীতল উপাদান ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি

চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে ঘরেই বানান হাইড্রেটিং মাস্ক

চোখের চারপাশের ত্বক মুখের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই ঘুমের ঘাটতি, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা সাইনাসের সমস্যার কারণে খুব সহজেই চোখের নিচে ফোলা ভাব বা ‘পাফি আইজ’ দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের আগে এমন সমস্যা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মেকআপ দিয়ে চোখের নিচের ফোলাভাব সবসময় পুরোপুরি ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না।

রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের চারপাশের ত্বককে ঠান্ডা, আর্দ্র ও আরামদায়ক রাখতে পারলে ফোলাভাব অনেকটাই কমে আসে। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই তৈরি করা যায় এমন কিছু হাইড্রেটিং মাস্ক, যা চোখকে সতেজ দেখাতে সাহায্য করতে পারে।

jagoপ্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঘরোয়া মাস্ক চোখের চারপাশে সতেজ অনুভূতি এনে দিতে পারে

শসা ও পুদিনা পাতার হাইড্রেটিং মাস্ক

শসা দীর্ঘদিন ধরেই চোখের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে পুদিনা পাতায় থাকা প্রাকৃতিক শীতল উপাদান ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য চোখের চারপাশে আরাম দিতে পারে।

এই মাস্ক তৈরির জন্য অর্ধেকটি শসা এবং ৫-৬টি তাজা পুদিনা পাতা একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে রস বের করে কিছুক্ষণ ফ্রিজে ঠান্ডা করুন। একটি তুলার বল বা কটন প্যাড রসে ভিজিয়ে চোখের নিচে ও চারপাশে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

গ্রিন টি ও অ্যালোভেরা মাস্ক

গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ক্যাফেইন চোখের নিচের ক্লান্ত ভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। অ্যালোভেরা জেল ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং শীতল অনুভূতি দেয়।

১ চা চামচ কড়া গ্রিন টি লিকার ঠান্ডা করে নিন। এরপর এতে ১ চা চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি চোখের নিচে ও চারপাশে আলতোভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে চোখের চারপাশ কিছুটা সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাতে পারে।

jagoশসা ও পুদিনার মাস্ক চোখের নিচে শীতল অনুভূতি দিতে সাহায্য করতে পারে

আলু ও কাঁচা দুধের মাস্ক

আলুতে থাকা প্রাকৃতিক স্টার্চ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বককে শীতল অনুভূতি দিতে পারে। কাঁচা দুধে থাকা প্রোটিন ও ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে কোমল রাখতে সহায়ক।

২ টেবিল চামচ আলুর রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ ঠান্ডা কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন। এরপর তুলা বা কটন প্যাড এই মিশ্রণে ভিজিয়ে চোখের ওপর ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। নির্দিষ্ট সময় পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চোখের চারপাশের ত্বক কিছুটা সতেজ অনুভূত হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাসেও মিলতে পারে উপকার

শুধু মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সময় মাঝেমধ্যে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঠান্ডা পানির ঝাপটা বা ঠান্ডা কমপ্রেসও অনেক সময় চোখের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

তবে যদি চোখের নিচের ফোলাভাব দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ব্যথা, লালচে ভাব বা দৃষ্টির সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: বি বিউটিফুল, উইকিহাউ, হেলথশটস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow