ছিনতাই হওয়া অটো ফিরে পেয়ে আত্মহারা রামকৃষ্ণ, পরিবারের ভালোবাসায় মুগ্ধ এসপি
নওগাঁর মহাদেবপুরে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন রামকৃষ্ণ সরকার। হারানো সম্বল উদ্ধার করে দেওয়ায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পরিবার নিয়ে ফুলের তোড়া হাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। পরিবারের এই ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ হন পুলিশ সুপার। জানা যায়, অসুস্থ রামকৃষ্ণ সরকার তার ছেলে রকিকে কিনে দিয়েছিলেন একটি অটো রিকশা। নওগাঁ শহরে সেই অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন রকি। উপার্জনকৃত টাকা দিয়ে রামকৃষ্ণের চিকিৎসা খরচসহ মোটামুটি চলছিল সংসার। কিন্তু ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে হারাতে হয় উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে, হতাশায় পড়ে যায় পুরো পরিবারটি। তবে বেশিদিন চিন্তায় থাকতে হয়নি রামকৃষ্ণের পরিবারকে। খোদ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বিশেষ তদারকিতে উদ্ধার করা হয় ছিনতাইকৃত অটো রিকশাটি। রামকৃষ্ণের পরিবার ফিরে পায় তাদের হারানো সম্বল। রামকৃষ্ণ সরকারের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামে। অসুস্থ হওয়ায় ছেলে রকি অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ শহরে এসে চালা
নওগাঁর মহাদেবপুরে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন রামকৃষ্ণ সরকার।
হারানো সম্বল উদ্ধার করে দেওয়ায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পরিবার নিয়ে ফুলের তোড়া হাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। পরিবারের এই ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ হন পুলিশ সুপার।
জানা যায়, অসুস্থ রামকৃষ্ণ সরকার তার ছেলে রকিকে কিনে দিয়েছিলেন একটি অটো রিকশা। নওগাঁ শহরে সেই অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন রকি। উপার্জনকৃত টাকা দিয়ে রামকৃষ্ণের চিকিৎসা খরচসহ মোটামুটি চলছিল সংসার। কিন্তু ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে হারাতে হয় উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে, হতাশায় পড়ে যায় পুরো পরিবারটি।
তবে বেশিদিন চিন্তায় থাকতে হয়নি রামকৃষ্ণের পরিবারকে। খোদ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বিশেষ তদারকিতে উদ্ধার করা হয় ছিনতাইকৃত অটো রিকশাটি। রামকৃষ্ণের পরিবার ফিরে পায় তাদের হারানো সম্বল।
রামকৃষ্ণ সরকারের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামে। অসুস্থ হওয়ায় ছেলে রকি অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ শহরে এসে চালাতো।
সোমবার (৩ আগস্ট) আত্মহারা রামকৃষ্ণ সরকারের পুরো পরিবার ফিরে পাওয়া অটোরিকশাসহ হাজির হন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সঙ্গে নিয়ে আসেন একটি ফুলের তোড়া। এসপির হাতে তুলে দেন সেই তোড়াটি।
রামকষ্ণ পরিবারের এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ হন এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। কৃতজ্ঞতা জানাতেও দ্বিধা করেননি তিনি। আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। অপরদিকে এসপির এমন দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে অনেকে করছেন প্রশংসা।
এসপি তারিকুল ইসলামা বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের পুলিশি জীবনে আজকে এক বিশেষ ভালোবাসা প্রাপ্তি। একটি পঙ্গু পরিবারের ভালোবাসার সিক্ত হলো নওগাঁ জেলা পুলিশ।
তিনি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, ‘চলতি বছরের গত ১ জুন ভুক্তভোগী রামকৃষ্ণ সরকার আমাকে মোবাইল ফোনে জানান গত ১০ জুন সকালে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী তার ছেলে রকিকে ডাবের পানির সঙ্গে বিষ খাইয়ে পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ওই ব্যক্তিকে নওগাঁ সদর থানায় যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেই। এবং মামলা রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য সদর থানা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘টিমটি নওগাঁ শহরের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সপ্তাহ ধরে ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী বগুড়া, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় অভিযান চালিয়ে দুষ্কৃতিকারী অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে রামকৃষ্ণের হারানো ধন টমটম অটো রিকশাটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে আদালতের নির্দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রামকৃষ্ণের অটো রিকশাটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়।’
এসপি আরও বলেন, ‘ছিনতাই হওয়া অটো ফেরত পেয়ে রামকৃষ্ণের পুরো পরিবার খুশিতে আত্মহারা। সেই সঙ্গে পুলিশ সুপার এবং জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি অসহায় পরিবারটি। তারই প্রেক্ষিতে সোমবার রামকৃষ্ণ সরকার ও তার মা, স্ত্রী এবং সন্তান রকি এবং ফিরে পাওয়া অটোসহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসেছে ধন্যবাদ জানানোর জন্য। রামকৃষ্ণ বেশ কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল, তারপর থেকে অসুস্থ, সে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারে না। শরীরে ক্যাথেটার লাগানোই আছে, তাই আমাকে ফোন করে অটোতেই বসে ছিল রামকৃষ্ণ।’
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আমি নিজেই নেমে আসলাম। নিচে নেমে আমি অনেকটা হত ভাগ ও অভিভূত। ফেরত পাওয়া টমটম অটোরিকশাসহ পুরো পরিবার পুলিশ সুপারকে ভালোবাসায় সিক্ত করল, সেই সাথে নওগাঁ জেলা পুলিশকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ একরাশ ভালোবাসা জানাল। পুলিশ সুপার হিসেবে আমিও তাদেরকে শুভেচ্ছা জানালাম। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হল নওগাঁ জেলা পুলিশের দায়িত্ব আরও এক ধাপ বেড়ে গেল। আমি তাদেরকে নওগাঁ জেলা পুলিশের জন্য দোয়া করতে বললাম। তার বৃদ্ধ মা আমার মাথায় হাত রেখে সে যেন সমগ্র নওগাঁ জেলা পুলিশকে আশীর্বাদ করল। পুলিশ সুপার তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিল এভাবেই নওগাঁ জেলা পুলিশ আগামী দিনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাবে।’
What's Your Reaction?