ছেলেকে নিয়ে একসঙ্গে বিষপান, মায়ের মৃত্যু

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্যাতনের অভিযোগের পর ২০ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন এক গৃহবধূ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হলেও শিশুটি রাজধানীর একটি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের দুই ছেলে বাদল মিয়া ও আব্দুস সাত্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটত। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার (৫ জুলাই) দুই ভাইয়ের মধ্যে আবারও বিরোধের একপর্যায়ে বড় ভাই বাদল মিয়া ছোট ভাই আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী আরিফা বেগমকে (২৭) কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। একই দিন সৌদি আরব যাওয়ার নির্ধারিত ফ্লাইট থাকায় আব্দুস সাত্তার বিদেশে চলে যান। পরে বিকেলে বাদল মিয়া পুনরায় আরিফাকে মারধর করেন বলে পরিবারের দাবি। স্বজনদের দাবি, এই অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আরিফা প্রথমে তার ২০ মাস বয়সী ছেলে রিয়াদুলকে বিষপান করান। এরপর নিজেও বিষপান করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে

ছেলেকে নিয়ে একসঙ্গে বিষপান, মায়ের মৃত্যু

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্যাতনের অভিযোগের পর ২০ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন এক গৃহবধূ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হলেও শিশুটি রাজধানীর একটি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের দুই ছেলে বাদল মিয়া ও আব্দুস সাত্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটত।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার (৫ জুলাই) দুই ভাইয়ের মধ্যে আবারও বিরোধের একপর্যায়ে বড় ভাই বাদল মিয়া ছোট ভাই আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী আরিফা বেগমকে (২৭) কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। একই দিন সৌদি আরব যাওয়ার নির্ধারিত ফ্লাইট থাকায় আব্দুস সাত্তার বিদেশে চলে যান। পরে বিকেলে বাদল মিয়া পুনরায় আরিফাকে মারধর করেন বলে পরিবারের দাবি।

স্বজনদের দাবি, এই অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আরিফা প্রথমে তার ২০ মাস বয়সী ছেলে রিয়াদুলকে বিষপান করান। এরপর নিজেও বিষপান করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে আরিফার মৃত্যু হয়। তবে তার একমাত্র ছেলে রিয়াদুল বর্তমানে ঢাকার শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সৌদি আরব থেকে মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরে আসেন আব্দুস সাত্তার।

এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জানা গেছে, প্রবাসী আব্দুস সাত্তার ও আরিফা দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। তাদের বড় দুই মেয়ে তৈয়বা (১০) ও হাফসা (৮)। একমাত্র ছেলে রিয়াদুল (২০ মাস) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিবপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, ‘নিহত আরিফার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের স্বামী একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow