‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার’ অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও উন্নয়ন পুনরুদ্ধারে একতাবদ্ধ হওয়ার ডাক

বগুড়ার শেরপুরে এক ব্যতিক্রমী আলোচনা সভা ‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ স্লোগানকে সামনে রেখে আসিফ সিরাজ রব্বানী’র এক সামাজিক প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শেরপুর শহরের শহীদ গাজীউর রহমান কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য (বগুড়া-৫ ও ৬) গোলাম মো. সিরাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মো. সিরাজ বলেন, ২০০৬ সাল পর্যন্ত এদেশের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান এখন তলানিতে। তিনি আরও যোগ করেন, আমি শুধু ভোটের জন্য এখানে আসিনি। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ পরিবর্তন এবং তারুণ্যের চাওয়া পূরণ করাই আমার মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আগে নৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি একটি শক্তিশালী ‘ইসলামী ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে ইসলামের প্রকৃত নৈতিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। উদ্বোধনী ও বিশেষ অতিথিদের বক্

‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার’ অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও উন্নয়ন পুনরুদ্ধারে একতাবদ্ধ হওয়ার ডাক

বগুড়ার শেরপুরে এক ব্যতিক্রমী আলোচনা সভা ‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ স্লোগানকে সামনে রেখে আসিফ সিরাজ রব্বানী’র এক সামাজিক প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শেরপুর শহরের শহীদ গাজীউর রহমান কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য (বগুড়া-৫ ও ৬) গোলাম মো. সিরাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মো. সিরাজ বলেন, ২০০৬ সাল পর্যন্ত এদেশের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান এখন তলানিতে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমি শুধু ভোটের জন্য এখানে আসিনি। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ পরিবর্তন এবং তারুণ্যের চাওয়া পূরণ করাই আমার মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আগে নৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি একটি শক্তিশালী ‘ইসলামী ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে ইসলামের প্রকৃত নৈতিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। উদ্বোধনী ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য আমিনুল মজলিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’-এর আহ্বায়ক আসিফ সিরাজ রব্বানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরডিএ বগুড়ার পরিচালক ড. আব্দুল মজিদ, বিশিষ্ট করপোরেট ব্যক্তিত্ব মেহবুব চৌধুরী, ডা. আমিরুল ইসলাম, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. সৈয়দা জিনিয়া রশীদ এবং শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম (মিঠু)। তৃণমূলের কণ্ঠে সমস্যার বাস্তব চিত্র আলোচনা সভায় ‘জনতার কণ্ঠে’ উঠে আসে স্থানীয় মানুষের নানা দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা।

নুসরাত জাহান রিতা বলেন, শিক্ষার মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ জরুরি হলেও এই এলাকায় নারীদের জন্য কোনো সরকারি কলেজ নেই। নারী শিক্ষা প্রসারে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রবীণ নাগরিক নূর মোহাম্মদ ধুনট এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি প্রাণ কুমার সিং তার সম্প্রদায়ের জন্য এলাকায় স্থায়ী বসতবাড়ি নির্মাণের দাবি তুলে ধরে বলেন তাহেল তাদের মান উন্নয়ন হবে।

তৃণমূল জনপ্রতিনিধি শাহ আলম পান্না আক্ষেপ করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা থাকলেও বাস্তবে এটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কৃষক শামিন হোসেন বলেন, আমরা লস দিয়ে ফসল বিক্রি করছি। বাজার মূল্যের সাথে আমাদের উৎপাদন খরচের আকাশ-পাতাল তফাত আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। খেলোয়াড় রুমন আলী শেরপুরে একটি আধুনিক খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে বলেন, মাঠের অভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অকালে ঝরে পড়ছে।

ডা. আসিফ ইকবাল সনি বলেন, ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, কোনো বিভেদ নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেরপুর-ধুনটকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাগুলোকে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow