জনসম্মুখে ডিএফওকে ফোন মন্ত্রীর, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার অনুরোধ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে গিয়ে জনসম্মুখে মুঠোফোনে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নাজমুল আলমকে ফোন করে এ অনুরোধ জানান তিনি। ওই সময় উপজেলা বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী, শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে লাউড স্পিকারে বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া এবং ঘুষ না পেলে সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন মাসোহারা না দেওয়ায় ১২শ কমলা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে মন্ত্রী বলেন, বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন হলুদিয়াচালায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি টিনের ঘর ছিল। তার অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দাল
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার অনুরোধ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে গিয়ে জনসম্মুখে মুঠোফোনে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নাজমুল আলমকে ফোন করে এ অনুরোধ জানান তিনি। ওই সময় উপজেলা বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী, শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে লাউড স্পিকারে বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া এবং ঘুষ না পেলে সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন হলুদিয়াচালায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি টিনের ঘর ছিল। তার অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দালালদের মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে ঘরটি কিছুটা বড় করায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী ডিএফওকে বলেন, ‘সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার (বদলি) করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন—এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।’
এ সময় আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমি যতদিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে হয়রানি করতে দেব না।’ তিনি আরও বলেন, আটিয়া বন আইনের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন। এলাকার মানুষ আশা করে তাকে ভোট দিয়েছে। তাই বন বিভাগের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়।’ একই সঙ্গে তিনি ডিএফওকে ওই কর্মকর্তাকে বদলি করে সেখানে ‘একজন ভালো মানুষকে’ দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তার বক্তব্য
বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছেন। ওই ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তারা শুধু সহযোগিতা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষার কাজ করবো।’ তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত’ বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ভোরে সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। এ ঘটনাটি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘরটি যে জমিতে নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই জমি ১৯৬২ সালের রেকর্ড অব রাইটস (আরওআর) রেকর্ডভুক্ত এবং রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তারা জমিটির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জমিটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত।
আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরেই হলুদিয়াচালা বাজারের ঘরটি ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান।
ঘর ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীর প্রকাশ্যে ফোন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমএএএন/এমএমকে
What's Your Reaction?


