জন্মদিনে কানাডার সড়কে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর

ছেলে বিদেশে পড়তে যাবে, পড়ালেখা শেষ করে একদিন পরিবারের হাল ধরবে— এমন হাজারো স্বপ্নে বুক বেঁধেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্নগুলো এক মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩২ মিনিটে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ মেধাবী ছাত্র মো. ইস্তিনাব মাহি (২৩)। মেরিনার মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির বড় ছেলে মাহি ছোটবেলা থেকেই ছিলো প্রচুর মেধাবী। চট্টগ্রাম নগরীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন স্কুল থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা শেষ করে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। গ্রামে থাকা সহায় সম্বল বিক্রি করে এবং নিকট আত্মীয়দের থেকে ধারদেনা করে বড় ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে

জন্মদিনে কানাডার সড়কে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর

ছেলে বিদেশে পড়তে যাবে, পড়ালেখা শেষ করে একদিন পরিবারের হাল ধরবে— এমন হাজারো স্বপ্নে বুক বেঁধেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্নগুলো এক মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩২ মিনিটে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ মেধাবী ছাত্র মো. ইস্তিনাব মাহি (২৩)।

মেরিনার মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির বড় ছেলে মাহি ছোটবেলা থেকেই ছিলো প্রচুর মেধাবী। চট্টগ্রাম নগরীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন স্কুল থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা শেষ করে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।

২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন।

গ্রামে থাকা সহায় সম্বল বিক্রি করে এবং নিকট আত্মীয়দের থেকে ধারদেনা করে বড় ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বলে কালবেলাকে জানান নিহতের বাবা মেরিনার মহিব উল্লাহ।

আবেগী কণ্ঠে তিনি বলেন, বুয়েটে পরীক্ষা দিতে দেরি করার কারণে মাহি বিভিন্ন দেশে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে তুরস্ক ও রোমানিয়াতে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পেলেও মনমত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডতেই ছিল। ছেলে আমার উপর অর্থের চাপ দিতে চায়নি, সে তুরস্কে চলে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু আমিই আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ছেলের ভালোর জন্য তাকে কানাডা পাঠাই।

সর্বশেষ ঈদুল আজহার মাসখানেক আগে দেশে এসেছিল জানিয়ে মাহির বাবা আরও বলেন, ঈদুল আজহার এক দুদিন পরের কোনো ফ্লাইটের টিকিট না পাওয়ার কারণে কোরবানের ঈদ না করেই সে চলে যায়। 

যাওয়ার আগে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা কী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলে যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করার জন্য বাসে উঠেছিল, আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে বলল, বাবা তুমি চিন্তা করো না, কোর্স ফির টাকা আমি ব্যবস্থা করব, আমি কপালে ছেলেকে চুমু দিয়ে বললাম, বেস্ট অফ লাক, ক্যারি অন বাবা।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাহির ছোট ভাই মানসিভ সামিন অহি কালবেলাকে বলেন, ভাইয়া অ্যাক্সিডেন্ট করার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওইদিন তার জন্মদিন ছিল এবং তারপরের দিনই ছিল পরীক্ষা। তার জন্মদিন বন্ধুরা মিলে সেলিব্রেট করার জন্য অনেকটা জোর করে তাকে বাহিরে নিয়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে সে যখন জন্মদিনের কেক কাটছিল তখন সে মাকে ভিডিও কল করে। ওই সামান্য মুহূর্তটাই ছিল ভাইয়ার সঙ্গে মায়ের শেষ আলাপ। এর ঘণ্টাখানেক পরেই সব শেষ।

মাহির চাচাতো ভাই মো. মাহমুদ রায়হান বলেন, মাহির এক্সিডেন্টের ঘটনা তার বন্ধুরা আমাকে প্রথমে জানায়। তারপর তার বাবা-মাকে আমরা জানাই। যেহেতু আমরা সেখানে নাই, তাই সরাসরি যোগাযোগ রাখার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাহির দুই বন্ধুকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা কানাডায় বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা এ ব্যাপারে সহায়তা পাচ্ছি। বিভিন্ন আইনি বিষয় শেষ করে তার মরদেহ দেশে আসতে তিন সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow