জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় আহত ১০, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৫

গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম থানার দাঁড়াইল এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী, শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে মামলার পর অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন খোকনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে টঙ্গীর দাঁড়াইল এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে এবং তারা নিয়মিত ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু একই জমির ১৬ শতাংশ জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার পর থেকেই বিভিন্নভাবে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে একটি মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য মোহন ও তার স্বজন নিবাসকে মারধর করা হয় এবং তাদের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সন্ধ্যায় আরও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় আহত ১০, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৫

গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম থানার দাঁড়াইল এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী, শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে মামলার পর অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন খোকনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে টঙ্গীর দাঁড়াইল এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে এবং তারা নিয়মিত ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু একই জমির ১৬ শতাংশ জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার পর থেকেই বিভিন্নভাবে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে একটি মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য মোহন ও তার স্বজন নিবাসকে মারধর করা হয় এবং তাদের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সন্ধ্যায় আরও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মনোয়ার হোসেন খোকনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোহনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় মোহন (৪৬), তার স্ত্রী বৃষ্টি, ছেলে বিজয় (১৪), ভাতিজি চায়নাসহ (২২) অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধা দেয়। ফলে অনেকেই আতঙ্কে এগিয়ে আসতে পারেননি। হামলার পর মোহনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে মনোয়ার হোসেন খোকন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। হামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার এরশাদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদের খোঁজখবর এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মনোয়ার হোসেন খোকনসহ পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow