জমে উঠছে জার্সি বেচা-কেনা, চাহিদার শীর্ষে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

রাজধানীর জার্সি বিক্রির স্থানগুলোর মধ্যে শীর্ষে গুলিস্তান ও তার আশপাশের এলাকা। প্রতিটি ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর এক-দেড় মাস আগে থেকেই এ এলাকায় হিড়িক পড়ে বিভিন্ন দলের জার্সি, ক্যাপ, পতাকা ও ব্যানার কেনা-বেচার। তবে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ঘিরে জার্সির বাজার যেন জমছিলই না। দুই-তিন দিন আগেও জার্সি বিক্রেতাদের যেন মাথায় হাত ছিল। তবে অবস্থা বদলে যাচ্ছে দ্রুত। গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতে জার্সি বিক্রির চৌকিগুলোর রং বদলে গেছে। আগে যারা নানা ধরনের কাপড়-চোপড় বিক্রি করতেন, এখন সেইসব দোকান হয়ে গেছে আকাশি-নীল ও সবুজ-হলুদে ভরপুর। বছরজুড়ে যারা বাচ্চাদের জামা-কাপড়, টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট-মোজা বিক্রি করেন, তারা এখন শুরু করেছেন জার্সি বিক্রি। কেনা-বেচাও জমতে শুরু করেছে। শনিবার দুপুরে গুলিস্তান, জিপিও মোড়, পুরানা পল্টন মোড়, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, জাতীয় স্টেডিয়াম চত্বর ও বঙ্গবাজার এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। বিশ্বকাপের বাকি আর ১৮ দিন। আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবার বিভিন্ন দলের পতাকা সেভাবে উড়ছে না। তবে মানুষ জার্সি কিনছে বেশ। জার্সি বিক্রেত

জমে উঠছে জার্সি বেচা-কেনা, চাহিদার শীর্ষে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

রাজধানীর জার্সি বিক্রির স্থানগুলোর মধ্যে শীর্ষে গুলিস্তান ও তার আশপাশের এলাকা। প্রতিটি ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর এক-দেড় মাস আগে থেকেই এ এলাকায় হিড়িক পড়ে বিভিন্ন দলের জার্সি, ক্যাপ, পতাকা ও ব্যানার কেনা-বেচার। তবে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ঘিরে জার্সির বাজার যেন জমছিলই না। দুই-তিন দিন আগেও জার্সি বিক্রেতাদের যেন মাথায় হাত ছিল। তবে অবস্থা বদলে যাচ্ছে দ্রুত।

গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতে জার্সি বিক্রির চৌকিগুলোর রং বদলে গেছে। আগে যারা নানা ধরনের কাপড়-চোপড় বিক্রি করতেন, এখন সেইসব দোকান হয়ে গেছে আকাশি-নীল ও সবুজ-হলুদে ভরপুর।

বছরজুড়ে যারা বাচ্চাদের জামা-কাপড়, টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট-মোজা বিক্রি করেন, তারা এখন শুরু করেছেন জার্সি বিক্রি। কেনা-বেচাও জমতে শুরু করেছে। শনিবার দুপুরে গুলিস্তান, জিপিও মোড়, পুরানা পল্টন মোড়, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, জাতীয় স্টেডিয়াম চত্বর ও বঙ্গবাজার এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।

বিশ্বকাপের বাকি আর ১৮ দিন। আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবার বিভিন্ন দলের পতাকা সেভাবে উড়ছে না। তবে মানুষ জার্সি কিনছে বেশ। জার্সি বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আরও ১০ দিন আগে থেকেই তারা দোকানে বিভিন্ন দলের জার্সি তুলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি বেড়েছে। শনিবারের চেয়ে শুক্রবার বেশি বিক্রি হয়েছে।

তবে অন্যবারের তুলনায় এবার হেঁটে হেঁটে পতাকা বিক্রি করা মানুষের সংখ্যা কম। জার্সির দোকানগুলোয় ক্রেতা চোখে পড়লেও পতাকা সেভাবে বিক্রি নেই। রাজধানীর দালানগুলোর ছাদের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। পতাকা বিক্রি কম হলেও দিন দিন জার্সি বিক্রি বাড়ছে।

Flag

বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকদের কাছে জার্সি ও পতাকার চাহিদার শীর্ষে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই দলের দুই তারকা মেসি ও নেইমারের নাম লেখা জার্সি নিয়েই চলে কাড়াকাড়ি। এবারও এই দুই দলের জার্সির চাহিদা বেশি এবং ব্যক্তি জার্সির চাহিদার দিক থেকে শীর্ষে ওই দুই তারকা মেসি ও নেইমার।

কয়েকজন দোকানির সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, জার্সি বিক্রিতে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। গুলিস্তানের এক দোকানি বললেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সি বেশি বিক্রি হয়। কোনো দিন ব্রাজিলের জার্সিও বেশি বিক্রি হয়। তবে গড়ে আমি আর্জেন্টিনার জার্সিই বেশি বিক্রি করি।’

মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে ফুটপাতের এক জার্সি বিক্রেতা তো বললেন মাঠের লড়াইয়ের মতো কথা, ‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জার্সি পাল্লা দিয়ে চলে। দুই দলের জার্সির বাইরে অন্য দলের জার্সি বিক্রি হলেও পরিমাণে অনেক কম।’ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বাইরে স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানির জার্সি বেশি বিক্রি হয়। এক সময় বিশ্বকাপ আসলে ইতালির জার্সিও বেশ বিক্রি হতো। তবে টানা তিন বিশ্বকাপে ইতালি না থাকায় এই দলটির নাম যেন ভুলে যেতে বসেছে দর্শকরা। তাই দোকানে দোকানে ইতালির জার্সি-পতাকা চোখে না পড়ারই কথা।

পীর ইয়েমেনী মার্কেটের উল্টো দিকে ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে জার্সি বিক্রি করেন কুমিল্লার লাকসামের আহসান উল্লাহ। তিনি বেশ খুশি। কারণ, এবার নাকি তার জার্সি বিক্রি বেশি হচ্ছে। দুজন সহকারী নিয়ে দোকান চালান তিনি। বেশ ব্যস্তই মনে হলো। পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে এগিয়ে এলেন সানন্দেই। বলছিলেন সকাল থেকে রাত অবধি জার্সি বিক্রির কথা।

জার্সি বিক্রি বিষয়ে আলোচনা উঠলেই তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘জার্সি বিক্রিতে এটা আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০২২ সালের পর এবার ২০২৬। আরও ১০ দিন আগে থেকে জার্সি বিক্রি শুরু করেছি। এবার মনে হয় বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমি তেমনই দেখছি। আমি যে জার্সি বিক্রি করছি, সেখানে আর্জেন্টিনারই বেশি চলছে। এরপরই ব্রাজিল। মোটামুটি চলে স্পেন ও জার্মানির জার্সি। ব্যক্তিগত জার্সিতে মেসি আর নেইমারেরই বেশি চাহিদা। ১০ দিন আগে থেকে আমার বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের মাত্র ১৭-১৮ দিন বাকি। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে।’

দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাচ্চাদের জার্সির চাহিদা অনেক। বিশেষ করে মেসি ও নেইমারের নাম লেখা জার্সি বাচ্চাদের জন্য নেওয়া হচ্ছে বেশি। শিহাব নামের এক ক্রেতা তার স্কুলপড়ুয়া ছেলের জন্য মেসির নাম লেখা জার্সি কিনে বলছিলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বাচ্চা মেসির জার্সির কথা বলছিল। আজ গুলিস্তান আসছিলাম একটা কাজে। ওর জন্য জার্সি নিয়ে নিলাম।’

জাতীয় স্টেডিয়ামের ২ নম্বর গেটের উল্টো দিকে পতাকার দোকানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখা গেল বিক্রি তেমন নেই। কয়েকজন ক্রেতা এলেন এবং পতাকা নেড়েচেড়ে আবার চলে গেলেন। দোকানদার বললেন, এবার পতাকা বিক্রি কম। শুক্রবার কিছু পতাকা বিক্রি হয়েছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সঙ্গে বিক্রি হয় বাংলাদেশের পতাকাও।

আরআই/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow