জলবায়ু পরিবর্তন: তাপমাত্রায় মরছে চিংড়ি, বিপাকে চাষি
মাছচাষি শহিদুল ইসলাম গত দুই যুগ ধরে বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা এলাকায় তার ৩০ বিঘা লবণ পানির মাছের ঘের রয়েছে। একসময় এসব ঘের থেকে ভালো লাভ হলেও গত কয়েক বছর ধরে নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। তীব্র গরমে ঘেরের মাছ ও চিংড়ি মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে মে ও জুন মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। এবছরও ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েকদিনের ব্যবধানে তার ঘেরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিংড়ি মারা গেছে। শহিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘আগে গরম পড়ত, কিন্তু এখনকার মতো এত তীব্র ছিল না। এখন রোদ উঠলে পানির তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। মাছ মরে পানির ওপরে উঠে আসে। কিছু মাছ দুর্বল হয়ে ধীরে ধীরে মারা যায়। কয়েক বছর ধরে একই অবস্থা। লাভ তো দূরের কথা, এখন পুঁজি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে গেছে।’ শুধু শহিদুল একা নন। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার মৎস্যচাষি লবণ পানির ঘেরে বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। উপকূলের শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও সদর উপজেলার অধিকাংশ চাষির অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে আর সেইসঙ্গে বাড়ছে মাছ ও চিংড়ির মৃত্যুহার। আরও পড়ুন সবুজ হারিয়
মাছচাষি শহিদুল ইসলাম গত দুই যুগ ধরে বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা এলাকায় তার ৩০ বিঘা লবণ পানির মাছের ঘের রয়েছে। একসময় এসব ঘের থেকে ভালো লাভ হলেও গত কয়েক বছর ধরে নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। তীব্র গরমে ঘেরের মাছ ও চিংড়ি মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে মে ও জুন মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। এবছরও ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েকদিনের ব্যবধানে তার ঘেরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিংড়ি মারা গেছে।
শহিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘আগে গরম পড়ত, কিন্তু এখনকার মতো এত তীব্র ছিল না। এখন রোদ উঠলে পানির তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। মাছ মরে পানির ওপরে উঠে আসে। কিছু মাছ দুর্বল হয়ে ধীরে ধীরে মারা যায়। কয়েক বছর ধরে একই অবস্থা। লাভ তো দূরের কথা, এখন পুঁজি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে গেছে।’
শুধু শহিদুল একা নন। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার মৎস্যচাষি লবণ পানির ঘেরে বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। উপকূলের শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও সদর উপজেলার অধিকাংশ চাষির অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে আর সেইসঙ্গে বাড়ছে মাছ ও চিংড়ির মৃত্যুহার।
গরমে কেন মরছে ঘেরের চিংড়ি
উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ লবণ পানির চিংড়ি ঘের তুলনামূলক অগভীর। সাধারণত এসব ঘেরে পানির গভীরতা মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট থাকে। আবার অধিকাংশ ঘেরের পাড়ে বড় কোনো গাছপালা বা ছায়া না থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় সরাসরি সূর্যের তাপ পানির ওপর পড়ে। ফলে তীব্র গরমে ঘেরের পানির তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে আসে।
‘দুপুরের দিকে ঘেরের পানি গরম হয়ে যায়। চিংড়ি পানির ওপরে ভেসে ওঠে। অনেক সময় সকালে এসে দেখি মরা চিংড়ি ভাসছে। গত তিন-চার বছরে এই সমস্যা অনেক বেড়েছে।’
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে বাগদা চিংড়ির ওপর। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে চিংড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে, রোগে আক্রান্ত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপকহারে মড়ক দেখা দেয়। ফলে প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাষি উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিপাকে চাষিরা
শ্যামনগরের গাবুরার চাষি আব্দুল কাদের জানান, দুপুরের দিকে ঘেরের পানি গরম হয়ে যায়। চিংড়ি পানির ওপরে ভেসে ওঠে। অনেক সময় সকালে এসে দেখি মরা চিংড়ি ভাসছে। গত তিন-চার বছরে এই সমস্যা অনেক বেড়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহও এখন বেশি দেখা যাচ্ছে।’
আশাশুনির চাষি নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, আগে বৃষ্টি হলে গরম কমত। এখন দীর্ঘ সময় বৃষ্টি নেই। পানি শুকিয়ে যায়, তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে চিংড়ির রোগও বাড়ছে।
স্পষ্ট হচ্ছে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা
সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া তথ্যভান্ডারের উপাত্ত অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের প্রবণতা বেড়েছে। আগে এপ্রিল-মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা প্রায়ই ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি ছুঁয়ে যাচ্ছে। ফলে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা দুটোই বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপকূলের চিংড়ি ও মাছ চাষে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহও এখন বেশি দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতার তারতম্য কৃষি ও মৎস্য খাতের ওপর প্রভাব ফেলছে।’
কেন বাড়ছে এই তাপমাত্রা?
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও জেলা জলবায়ু পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি বাস্তবতা। শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা।’
‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি বাস্তবতা। শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ’
তার মতে, ‘এটি শুধু একটি মৎস্যখাতের সংকট নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত। যদি এখনই অভিযোজন ব্যবস্থা জোরদার না করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে চিংড়ি উৎপাদন আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
কমছে রপ্তানি আয়
বাগদা চিংড়ির উৎপাদন কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের রপ্তানি আয়ে। কারণ বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য চিংড়ির মধ্যে বাগদার অংশই সবচেয়ে বেশি। খুলনা অঞ্চলের মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৩ হাজার ৯৬৩ টন বাগদা চিংড়ি রপ্তানি করে প্রায় ১ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা এ অঞ্চলের মোট চিংড়ি রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ।
উৎপাদন ও রপ্তানির এই চিত্রের মধ্যেই ভবিষ্যৎ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবদাহ, পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, রোগবালাই ও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক ঘেরে উৎপাদন কমছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে মাছ ও চিংড়ির মড়ক বাড়তে থাকলে উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে। এমনকি শিল্প সংশ্লিষ্টদের হিসাবে উৎপাদন সংকট ও রোগব্যাধির কারণে প্রতিবছর কয়েকশ কোটি টাকার সম্ভাব্য রপ্তানি আয় হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি খাতেও এর প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়ে চিংড়ি রপ্তানি করে আয় হয়েছে প্রায় ২৬৬ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের ২৭৩ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬২ শতাংশ কম।

বিশ্বে চরম তাপমাত্রার দেশ হবে বাংলাদেশ
বিশ্লেষকদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রোগবালাই এবং উপকূলীয় ঘেরগুলোর উৎপাদন অস্থিতিশীলতা বিশেষ করে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে এই খাতের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলছে।
মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ
চিংড়িকে তাপদাহের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ঘেরে পর্যাপ্ত গভীরতায় পানি সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এতে পানির তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে না এবং চিংড়ির জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকবে। সম্ভব হলে জোয়ারের সময় নতুন পানি প্রবেশ করানোর পাশাপাশি রাতের বেলায় এরেটর বা পানি সঞ্চালনের ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, যাতে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া নিয়মিত পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পিএইচ এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, ঘেরে কিছু প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ (শেওলা) সংরক্ষণ করলে তা পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে এবং চিংড়ির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সাতক্ষীরা চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাগদা চিংড়ি একটি পরিবেশ-সংবেদনশীল প্রজাতি। তীব্র গরমের সময় ঘেরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। তখন চিংড়ি তাপজনিত চাপের মধ্যে পড়ে, খাবার গ্রহণ কমিয়ে দেয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকলে চিংড়ি বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অক্সিজেনের ঘাটতি ও পানির গুণগত মানের অবনতির কারণে হঠাৎ করেই ব্যাপক হারে মৃত্যুও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দুটোই বেড়েছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি চাষে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাষিদের আরও আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক চাষ ব্যবস্থাপনার দিকে যেতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে তাপদাহের সময়ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীল চিংড়ি চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং চাষিদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো জরুরি।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ এখন উপকূলীয় মৎস্য খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিংড়ি চাষিদের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত ঘের পরিদর্শন করছেন এবং চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

পচা পাটের গন্ধ ও সোনালি আঁশের হারানো দিন
তিনি জানান, মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে পানির গুণগত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো চাষি সমস্যায় পড়লে উপজেলা মৎস্য অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারবেন। পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পিএইচ ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তাপদাহের সময় ঘেরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এজন্য চাষিদের সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চাষিদের ক্ষতি কমিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে মৎস্য বিভাগের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী কৃষিভিত্তিক খাতগুলোর একটি হচ্ছে চিংড়ি শিল্প। সাতক্ষীরা দেশের বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল। ফলে উৎপাদন কমে গেলে শুধু চাষিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলের মৎস্যখাত টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু চাষিদের সচেতনতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল মৎস্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত গবেষণা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি। অন্যথায় ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে উপকূলের হাজার হাজার চাষিকে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?


