জসিম উদ্দিনকে নিয়ে জামায়াত নেতার বক্তব্যে বিএনপির ক্ষোভ

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনকে নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসাইনের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ সমাবেশে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ড. মোবারক হোসাইন বলেন, “এখনো মাদক বন্ধ হয় নাই। অনেকে লুঙ্গি পড়ে মাদক নিয়ন্ত্রণের নাটক করছে। জনগণ ক্লিয়ার বুঝে, আপনি সব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের জন্য লুঙ্গি পড়ে ঘুরছেন। মানুষ এই নাটক আর দেখতে চায় না।” তার এ বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেল

জসিম উদ্দিনকে নিয়ে জামায়াত নেতার বক্তব্যে বিএনপির ক্ষোভ

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনকে নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসাইনের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ সমাবেশে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ড. মোবারক হোসাইন বলেন, “এখনো মাদক বন্ধ হয় নাই। অনেকে লুঙ্গি পড়ে মাদক নিয়ন্ত্রণের নাটক করছে। জনগণ ক্লিয়ার বুঝে, আপনি সব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের জন্য লুঙ্গি পড়ে ঘুরছেন। মানুষ এই নাটক আর দেখতে চায় না।”

তার এ বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই হাজী জসিম উদ্দিন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তিনি নিজেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসব দেখে জামায়াত নেতা মোবারক হোসাইন প্রতিহিংসা করছেন। তার বক্তব্যে মাদক কারবারিরা উৎসাহিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। এমপি হাজী জসিম উদ্দিনের কাজ জনগণই মূল্যায়ন করবে।”

এছাড়াও ড. মোবারক হোসাইনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সবুজসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী।

এদিকে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকায় তার সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এদের কাজই হলো বিশৃঙ্খলা ছড়ানো, সমাজ অস্থিতিশীল করা। পেটে-পিঠে সহ্যের সীমা না থাকায়, অন্যের সুখের রোদে এরা পুড়ে মরে। তখন একটাই কাজ করে এরা, ন্যারেটিভ বদলায়। ইতিবাচকতাকে অস্বীকার করে স্রেফ নেতিবাচকের উপর ফোকাস করে। এই নিন্দুকেরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে কখনো শান্তি খুঁজে পায় না। তারা সুন্দর কিছু করতে পারে না বলেই, আপনার সুন্দরটা নষ্ট করতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমার একটা আহ্বান, এই মানুষগুলোকে গুরুত্ব দেবেন না। এদের অন্ধকার যেন আপনার আলোকে কখনো গ্রাস করতে না পারে। সমালোচনার জবাব বিতর্ক দিয়ে নয়, সাফল্যের গল্প দিয়ে দিতে হয়।”

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোবারক হোসাইনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাজী জসিম উদ্দিন। নির্বাচনের পর থেকেই দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow