জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসছে চিতাবাঘসহ নতুন ৩ প্রাণী

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসছে নতুন তিন প্রাণী। সেগুলো হলো- চিতাবাঘ, ওয়াইল্ড বিস্ট ও ওয়াটার বার্ড। প্রাণিগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আনতে ওয়ার্ক অর্ডার পাঠানো হয়েছে। কোরবানির ঈদের আগে চিড়িয়াখানায় প্রাণিগুলো চলে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। সোমবার (১৬ মার্চ) জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরে নতুন কোনো প্রাণী আসছে না। তবে নতুন একটি জিরাফের বাচ্চা উন্মুক্ত করা হবে। দর্শনার্থীরা দেখতে পারবেন জিরাফের বাচ্চাটিকে। এছাড়া বাঘ দম্পতি বেলি-টগরের ঘরে ৪ শাবক এসেছে। তবে সেগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিনোদনপ্রেমী মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। প্রতিবছরই ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন বিনোদনকেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে প্রস্ততি নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরে ঈদে সরকার মোট ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে, যা ১৭ মার্চ (শবে কদর) থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে। আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) অথবা ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জ

জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসছে চিতাবাঘসহ নতুন ৩ প্রাণী

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসছে নতুন তিন প্রাণী। সেগুলো হলো- চিতাবাঘ, ওয়াইল্ড বিস্ট ও ওয়াটার বার্ড। প্রাণিগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আনতে ওয়ার্ক অর্ডার পাঠানো হয়েছে।

কোরবানির ঈদের আগে চিড়িয়াখানায় প্রাণিগুলো চলে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

সোমবার (১৬ মার্চ) জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরে নতুন কোনো প্রাণী আসছে না। তবে নতুন একটি জিরাফের বাচ্চা উন্মুক্ত করা হবে। দর্শনার্থীরা দেখতে পারবেন জিরাফের বাচ্চাটিকে। এছাড়া বাঘ দম্পতি বেলি-টগরের ঘরে ৪ শাবক এসেছে। তবে সেগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।

ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিনোদনপ্রেমী মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। প্রতিবছরই ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন বিনোদনকেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে প্রস্ততি নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরে ঈদে সরকার মোট ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে, যা ১৭ মার্চ (শবে কদর) থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে। আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) অথবা ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ২০ মার্চ থেকে পুরো সপ্তাহ চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় থাকবে। আর ঈদের পরের দিন রোববার সাপ্তাহিক ছুটি হলেও খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মল আনন্দ বিলিয়ে দিতে এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

মিরপুরে ১৮৬ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের নিরপাত্তা ও হয়রানি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রেয়েছে- টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো, চিড়িয়াখানার ভেতরে হকারমুক্ত রাখা ও নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করা।

এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুপেয় পানি, মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থাসহ আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে পুরো চিড়িয়াখানাকে। এবার ঈদের ছুটিতে এখানে প্রায় কয়েক লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে জানান চিড়িয়াখানা পরিচালক।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। তারা যেন সুস্থ ও নিরাপদভাবে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে বেরিয়ে যেতে পারেন সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি, ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে বসেছি। ঈদের সময়টা অধিকসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্য চিড়িয়াখানার ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। দর্শনার্থীদের হ্যাসেলমুক্ত পরিবেশ দিতে চাই। এবার চিড়িয়াখানার সামনের যানজট দূর করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবার দর্শনার্থীদের প্রবেশ মূল্য আগের মতোই থাকছে। দুই বছরের ঊর্ধ্বের বয়সী সবাইকে ৫০ টাকার টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ১৩৫ প্রজাতির ৩ হাজার ১০০ এর মতো প্রাণী আছে সেখানে। ১৯৭৪ সালে ১৮৬ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় মিরপুরের এই জাতীয় চিড়িয়াখানায় মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণী, ১৯ প্রজাতির বৃহৎ প্রাণী (তৃণভোজী) ২৭১টি, ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি প্রাণী রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ১০ প্রজাতির সরীসৃপ ৭২টি, ৫৬ প্রজাতির ১ হাজার ১৬২টি পাখি, অ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত ১৩৬ প্রজাতির প্রায় আড়াই হাজার মাছ। সব মিলিয়ে রয়েছে ১৩৭টি পশুপাখির খাঁচা।

নিরাপত্তার পাশাপাশি চিড়িয়াখানার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শারিরিকভাবে চাঙ্গা রাখতে প্রাণিদের ভিটামিন ও মিনারেল পরিবেশন করা হয়েছে।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, রঙের কাজ শেষ হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে। প্রাণিদের ভিটামিন ও মিনারেল দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দর্শনার্থীরা সার্বিক আয়োজন দেখে সন্তুষ্ট হতে পারবেন।

এসএম/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow