জাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নাঈম আহমদ সানি নামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে ঘটনার বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ ছাড়াও পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামান ইমন, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান সানজুসহ নাম না জানা কয়েকজন শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানিকে মারধর করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে নাঈম আহমদ সানি বলেন, সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি হলের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখতে যান। খেলা শুরুর আগে সেখানে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলছিল। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে খেলার সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় দর্
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নাঈম আহমদ সানি নামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে ঘটনার বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ ছাড়াও পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামান ইমন, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান সানজুসহ নাম না জানা কয়েকজন শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানিকে মারধর করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে নাঈম আহমদ সানি বলেন, সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি হলের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখতে যান। খেলা শুরুর আগে সেখানে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলছিল। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে খেলার সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় দর্শকদের অনেকেই খেলা চালুর দাবি জানান। এ সময় তিনিও অন্যদের সঙ্গে খেলা শুরু করার আহ্বান জানান।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, এ সময় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক কিরণ (বাংলা বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ) মঞ্চ থেকে নেমে এসে তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলেও কয়েক মিনিট ইমন (পাবলিক হেলথ, ৪৮তম ব্যাচ), সাঞ্জু (দর্শন বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ) ও তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, হামলার সময় তাকে কিল–ঘুসি ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। তার গলায় থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা পেঁচিয়ে ধরার ফলে শ্বাসরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এতে তার মুখ, গলা ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
অভিযোগপত্রে তিনি আরও বলেন, হামলার পর আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে টিএসসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, ‘খেলা দেখতে অতিরিক্ত দর্শক উপস্থিত হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থীকে উত্তেজিত আচরণ করতে দেখে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এ সময় তার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। এর পর সেখানে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে জানতে পারি তিনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি শুনে আমি দুঃখ প্রকাশ করতে তার হলে গিয়েছিলাম। তবে তিনি আমার সঙ্গে দেখা করেননি। যেহেতু খেলা প্রদর্শনের আয়োজনের দায়িত্বে আমি ছিলাম, তাই সৌজন্যবশত তার খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম।’
আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ইমন বলেন, ‘কিরণের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হতে দেখে আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে যাই। তখন সেখানে মবের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন। তবে আমি এবং সাঞ্জু তাঁকে মারধর করিনি, আমরা মূলত কথা বলতে গিয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহানুর রহমান সানজুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি তাকে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম বলেন, ’লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সন্ধ্যায় জাকসু ভিপিসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে বসবো।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার আবেদনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।’
What's Your Reaction?