জাবির এক শিক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেট জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ, বেতন অবনমন, পদাবনতি ও বাধ্যতামূলক অবসরের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে প্রায় ১২ ঘণ্টা সিন্ডিকেট সভা চলে। রাত সাড়ে ৪টায় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিন্ডিকেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটি ও স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না পান এবং কোনো দোষীও দায়মুক্তি না পান। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। নাটক

জাবির এক শিক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেট জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ, বেতন অবনমন, পদাবনতি ও বাধ্যতামূলক অবসরের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে প্রায় ১২ ঘণ্টা সিন্ডিকেট সভা চলে। রাত সাড়ে ৪টায় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিন্ডিকেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটি ও স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না পান এবং কোনো দোষীও দায়মুক্তি না পান। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গনের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করে নিম্ন বেতনস্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনেরও দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে আইবিএর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে। এ ছাড়া সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান এবং অধ্যাপক বশির আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দুই বছর পর পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে। পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে এবং দুই বছর পর পুনরায় পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। উপাচার্য আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা পৃথকভাবে তদন্ত করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow