জাবির হিম উৎসবে ‘অশোভন’ নৃত্য, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘হিম উৎসব’-এর প্রথম দিনের একটি নৃত্য পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মঞ্চে পরিবেশিত ওই নৃত্যকে ‘অশোভন’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক শালীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘পরম্পরায় আমরা’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের ‘পঞ্চরস যাত্রাপালা’ পর্বে মঞ্চে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। নৃত্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেন, নৃত্যের ভঙ্গি ও উপস্থাপন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শালীনতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। সুমাইয়া শশী নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে উৎসবের আয়োজন ও পরিবেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লেখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান–সম্মান ক্ষুণ্ন করে এমন একটি উৎসব আয়

জাবির হিম উৎসবে ‘অশোভন’ নৃত্য, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘হিম উৎসব’-এর প্রথম দিনের একটি নৃত্য পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মঞ্চে পরিবেশিত ওই নৃত্যকে ‘অশোভন’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক শালীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘পরম্পরায় আমরা’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের ‘পঞ্চরস যাত্রাপালা’ পর্বে মঞ্চে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। নৃত্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেন, নৃত্যের ভঙ্গি ও উপস্থাপন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শালীনতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।

সুমাইয়া শশী নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে উৎসবের আয়োজন ও পরিবেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লেখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান–সম্মান ক্ষুণ্ন করে এমন একটি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। কী পরিমাণ রুচির অবক্ষয় হলে এ ধরনের যাত্রাপালার আয়োজন করা যায়? যারা এই আয়োজন করেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মর্যাদার বিষয়টি একেবারেই বিবেচনায় নেয়নি।

তিনি লেখেন, এর আগেও এ ধরনের বিতর্কিত পরিবেশনা দেখা গেছে। এবার তো জাহাঙ্গীরনগরকে নিম্নরুচির যাত্রাপালার মঞ্চে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কি এ ধরনের অশালীন আয়োজনের জায়গা হতে পারে?

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে পরিবেশনা এমন হওয়া উচিত, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও শালীনতা বজায় থাকে।

এ বিষয়ে উৎসব আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর শীত মৌসুমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এবারের উৎসবের একটি পরিবেশনা ঘিরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow